আধুনিক গড়ার উদ্যেগ ঐতিহ্যবাহী টাউনহলের স্বাধীনতা উন্মুক্ত মঞ্চ

0
109

মালিকুজ্জামান কাকা, যশোর : বাঙালীর গৌরব মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বাক্ষী যশোরের অবেহলিত স্বাধীনতা মঞ্চটি দ্রুতই আধুনিক রূপ পেতে যাচ্ছে। এক কোটি ও বেশি টাকা ব্যয়ের এই পরিকল্পনা শীঘ্র শুরু হবে। ২৭ অক্টোবর যশোর জেলা পরিষদের মাসিক সভা শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। যশোর টাউনহল মাঠের ইতিহাস বিজড়িত ঐতিহ্যবাহী স্বাধীনতা উন্মুক্ত মঞ্চ। ১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর এই মঞ্চেই স্বাধীন বাংলার মাটিতে প্রবাসী সরকারের প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। কালেক্টরেট ভবনের পূর্ব পাশ থেকে দড়াটানার লিংক রোড সিভিল কোর্ট মোড় হয়ে বেনাপোল সড়কে মিশেছে। দক্ষিন পাশে তা জাতির জনক মুজিব সড়ক নামে পরিচিত। এই মঞ্চে ভাষণ দিয়েছিলেন প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানসহ দেশের গণমান্য ব্যক্তিবর্গ। অথচ বিগত কয়েক দশক ধরে অবহেলিত ও জর্জরিত অবস্থায় পড়ে ছিল মঞ্চটি। দেখভাল না করায় এক সময় মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয় এটি। জেলা পরিষদ মঞ্চকে আধুনিকভাবে সাজাতে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এটি সম্পন্ন করতে ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি ১০ লাখ টাকা। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুলের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন স্থানীয় সরকার, পলী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এমপি। সভায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের বিবরণী তুলে ধরেন পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ-উজ-জামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক, সদস্য মেহেদী হাসান মিন্টু, অহিদুজ্জামান, ইব্রাহীম খলিল, ইকবাল আহমেদ, হবিবর রহমান, তৌহিদুর রহমান, ইকবাল হোসেন, শাহ মুরাদ আহমেদ, এস এম ফারুক হুসাইন, গৌতম চক্রবর্তী, হাসান সাদেক, সোহরাব হোসেন, অনিন্দ্যদেব সরকার, সংরতি সদস্য হাজেরা পারভীন, সাহানা আক্তার, লায়লা খাতুন, শ্যায়লা জেসমিন, রুকসানা ইয়াসমিন পান্না প্রমুখ। যশোরে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম বিজয় সমাবেশ : ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত হয় যশোর। এর পাঁচদিন পর টাউন হল ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম বিজয় সমাবেশ। এ সমাবেশে উপস্থিত হয়ে দেশ পুনর্গঠনের ডাক দিয়েছিলেন প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজ উদ্দীন আহমদ। বাংলাদেশের ইতিহাসে অনন্য মাইলফলক হয়ে আছে তার এ ভাষণ ও বিজয় সমাবেশ। মুক্তিযোদ্ধারা জানান, ৬ ডিসেম্বর বিকালে যশোর শহর ছেড়ে পালিয়ে যায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। পরে মিত্র ও মুক্তিবাহিনী সেনানিবাসে প্রবেশ করে দখল নেয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই বিভিন্ন স্থানে মানুষের ঢল নামে। মুক্তির আনন্দ ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে যশোর শহর। এ বিজয়ের সুবাদে ১১ ডিসেম্বর তাজউদ্দীন আহমদ পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে যশোরে আসেন। পরে তিনি ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম টাউন হল ময়দানে আয়োজিত বিজয় সমাবেশে যোগ দেন। এ জনসভায় সমবেত জনতার উদ্দেশে দেশ পুন: গঠনের ডাক দিয়ে তাজ উদ্দীন বলেছিলেন, ‘আর ধ্বংস নয়, যুদ্ধ নয়। এ মুহূর্তে কাজ হলো যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তোলা’। জনসভায় তাজ উদ্দীন আহমদ যশোরের তৎকালীন ডিসি ওয়ালি উল ইসলাম ও কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাঞ্চন ঘোষালকে এই বলে নির্দেশনা দেন যে, আইন-শৃঙ্খলায় যেন কোনো অবনতি না হয়। জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করবেন। তাজউদ্দীন আহমদ আরো বলেছিলেন, স্বাধীন এ দেশে ধর্ম নিয়ে আর রাজনীতি চলবে না। আর তাই জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলামকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো। যশোরের মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম জানান, এ জনসভার খবর সংগ্রহের জন্য লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকার সাংবাদিক পিটার গিল, নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকার সিডনি এসএইচ সশানবার্গসহ বহু বিদেশী সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here