লেবুতলা হাটো লাখ লাখ টাকার খাজনা আদায় করে আত্মসাৎ

0
87

মালিকুজ্জামান কাকা, যশোর : এক টানা ৬/৭ বছর যশোর যাবৎ যশোর জেলার সদর উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নে সরকারি রাস্তা দখল করে সবজি বাজার পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি অনুমোদন হীন বাজার এটি। হয়নি কোনো টেন্ডার। সরকার রাজস্ব পায়না এখান থেকে। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল খাজনার নামে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা আদায় করছে এই হাট থেকে। স্থানীয় একটি চাচা ভাইপো সিন্ডিকেট সবজি ব্যবসায়িদের কাছ থেকে মন গড়া খাজনা উঠিয়ে সেই অর্থ আত্মসাৎ করছে বলে জোর অভিযোগ রয়েছে।
প্রকাশ্যে অবৈধ বাজার বসালেও এ নিয়ে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। স্থানীয় জন প্রতিনিধির দাবি, প্রতিহাটে ৭০-৮০ হাজার টাকা উঠানো হয়। সেই হিসেবে মাসে তিন লাখ, বছরে ৩৬ লাখ ও ছয় বছরে দু’ কোটি ১৬ লাখ টাকা খাজনার নামে হাতিয়ে নিয়েছে সিন্ডিকেটটি। এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের প থেকে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে কয়েক বার জানালেও কোনো পদপে নেয়া হয়নি। লেবুতলার তেঁতুলতলা- বারোবাজার রোডের প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে বিশাল সবজির বাজার বসে। বাজার বসেছে যশোর-মাগুরা সড়কেও। যেখানে থাকে কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতি। যশোরসহ আশপাশের এলাকার মানুষ তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন সবজির পসরা সাজিয়ে বসে আছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়িরা এসে সবজি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। বাজারের প্রবেশ স্থলে হ্যান্ড মাইকে বলা হয়, খাজনা ছাড়া কেউ বের হবেন না। এ ধরনের মাইকিং করেন রতন নামে জনৈক ব্যক্তি। সবজি ওজনে মেপে কোনো রশিদ ছাড়াই খাজনা তোলেন অন্তত ১৪-১৫ জন। বাজারে আগতরা জানান, বাজার থেকে বেগুন, পেঁপে, পটল, ঢেঁড়স, কচুলতি, উচ্ছে, ওল, ফুলকপি, বাঁধাকপি, কাঁচাঝাল, লেবুসহ বিভিন্ন সবজি মণ প্রতি তাদেরকে দিতে হচ্ছে ২০-২৫ টাকা। এছাড়া, প্রতি পিছ লাউ এক টাকা ও এক কাঁদি কাঁচকলা বাবদ তাদেরকে দিতে হচ্ছে ১০ টাকা করে। এর বাইরেও পৃথক জায়গা করা আছে। সেখানে পণ্য রাখলেই ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে দিতে হয় ওই সিন্ডিকেটকে। তারা আরও জানান, এই বাজারটি সরকারিকরণ হলে আরও সুবিধা বাড়তে পারে। তখন তারা স্বাচ্ছন্দের সাথে পণ্য কেনাবেচা করতে পারবেন। অনেকেই পরিচয় গোপন রেখে জানান, স্থানীয় মোল্যাপাড়ার শহীদুল ইসলাম শহিদ ও তার ভাইপো আসাদুজ্জামান আশা মেম্বরের নেতৃত্বে এ বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তাদের সাথে রয়েছেন শহীদের আরও চার ভাইপো সুমন মোল্যা, রতন মোল্যা, মিছির মোল্যা, রিয়াল মোল্যা, ঘোষপাড়ার মোহন মেম্বর, মিস্ত্রিপাড়ার সাহেব আলী ও হঠাৎ পাড়ার তৌহিদ ড্রাইভার। প্রতি সোমবার তারা বাজারে উপস্থিত থেকে টাকা ওঠান। বাজার শেষে সব টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে তারা বাজার ত্যাগ করেন। রশিদ ছাড়া টাকা উত্তোলন সম্পর্কে মাইকিংকারী রতন মোল্যা ও সুমন বলেন, তার চাচার নেতৃত্বেই এ টাকা ওঠানো হচ্ছে। চাচা ও আশা মেম্বর বিস্তারিত ভালো বলতে পারবেন। প্রধান অভিযুক্ত শহীদুল ইসলাম শহিদ বলেন, ওই বাজার থেকে টাকা উঠানোর বিষয়ে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি বলেন, এলাকার চাষিরা বাজারে সবজি এনে বিক্রি করেন। এতে করে রাস্তা ময়লা হয়। ওই ময়লা পরিষ্কারের জন্যে এলাকার ছেলেরা কিছু টাকা আদায় করে। ওই বাজারে তেমন কিছুই হয়না। একই কথা বলেন আশা মেম্বার। এ বিষয়ে লেবুতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলীমুজ্জামান মিলন বলেন, দীর্ঘ ৬/৭ বছর ধরে তেঁতুলতলায় অবৈধভাবে সবজির হাট বসছে। প্রথম দুই বছর বাবুল ও ইকতার নিয়ন্ত্রণ করেছেন। পরে তাদের কাছ থেকে শহিদ ও আশা মেম্বর হাটের দায়িত্ব ছিনিয়ে নিয়ে দেখভাল করছেন। তিনি আরও জানান এ হাট সরকারি নথিভুক্ত না হওয়ায় কোনো টাকা আসে না। অথচ প্রতি সপ্তাহে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা খাজনা উঠানো হয়। এ বিষয়ে একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার আজো পর্যন্ত মেলেনি। যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মুনিম লিংকন বলেন, তিনি অল্প কদিন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। লেবুতলায় একটি স্থানে অবৈধভাবে হাট বসছে বলে তার কাছে তথ্য এসেছে। শীঘ্রই তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। স্থানীয়দের বক্তব্য, বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে যশোরের মডেল লেবুতলা ইউনিয়ন। এখানকার উৎপাদিত সবজি বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে। লেবুতলায় যদি সরকারিভাবে একটি হাটের ব্যবস্থা করা হয় তাহলে সরকার যেমন রাজস্ব পাবে, তেমনি উন্নয়নের ছোঁয়া লাগবে এই মডেল ইউনিয়নটিতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here