গ্রাম- বাংলার ঐতিহ্য খেজুরের রস সংগ্রহে ঢাকুরিয়ার গাছিরা খেজুর গাছ প্রস্তুতে ব্যস্ত সময় পার করছে

0
102

মহসীন হোসাইন( ঢাকুরিয়া) সংবাদদাতা : যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়ার গাছিরা খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করার জন্য ব্যস্ত সময় পার করছে। প্রকৃতির পালা বদলে আসন্ন শীত মৌসুম। প্রভাতে শিশির ভেজা ঘাস আর সামান্য কুয়াশার আবরণ জানান দিচ্ছে শূতের আগমনী বার্তা।কথায় আছে যশোরের যশ খেজুরের রস। তাই শীতের মৌসুম শুরু হতে না হতেই গাছ থেকে রস সংগ্রহের পূর্ব প্রস্ততি শুরু হয়েছে ঢাকুরিয়ায়।এরই মাঝে গাছিরা ব্যস্ত হয়ে খেজুর গাছ কাটা শুরু করেছে। রস সংগ্রহের জন্য পূর্ব প্রস্ততি হিসাবে এখন খেজুর গাছের মাথায় বিশেষ পদ্ধতিতে কাটা বা চাচ দেওয়ার কাজ শুরু করেছে।ধারাল দা( গাছিদা) দিয়ে খেজুর গাছের মাথার সোনালী অংশ বের করা হয়।যাকে বলে চাচ দেওয়া।এক সপ্তাহ পর নোলন স্হাপনের মাধ্যমে শুরু হবে সুস্বাদু খেজুর রস সংগ্রহের মুল কাজ।তার কিছুদিনপরই গাছে লাগানো হবে মাটির পাতিল ( ভাড়)। সংগ্রহ করা হবে মিষ্টি স্বাদের খেজুরের রস।তা দিয়ে তৈরী হবে লোভনীয় গুড় ও পাটালী।ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামগুলোতে এবং পার্শবর্তী হরিদাসকাটী ইউনিয়নে এখনো চোখে পড়ে খেজুর গাছের বিশাল সমারোহ।জমির সীমানার আইলে ও পতিত জমিতে প্রচুর খেজুর গাছ রোপন করেছেন গ্রামের সহজ সরল পরিশ্রমী কৃষকরা।বিশেষ করে ঢাকুরিয়া, ভবানীপুর, সুবলকাটী,চাম্পাকোনা, গাবখালী,প্রতাপকাটী,নাউলী,বারপাড়া,বোয়ালিয়া এবং পার্শ্ববর্তী গ্রাম ভোমরদাহ,চান্দুয়া,শ্রীপুর,সমসকাটী প্রভৃতি গ্রাম জুড়ে রয়েছে যশোর জেলার ঐতিহ্য খেজুরের গাছ।এই মৌসুমে খেজুরের রস দিয়েই গ্রামে শুরু হয় শীতের আমেজ। শীত যত বৃদ্ধিপাবে খেজুরের রস ও তত বৃদ্ধি পাবে।শীতের সকালের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ দিনের শুরুতে রস ও মুড়ি দিয়ে ভিজিয়ে খেতে খুবই মজা লাগে।সন্ধ্যায় গুড় ও পটালী খেতে আরও মধুর লাগে সে যেন এক অন্যরকম অনুভুতি।সত্যি রস গুড় ও পাটালী না খেলে বুঝানো মুসকিল।বাড়িতে বাড়িতে খেজুরের রস জালিয়ে পিঠা পায়েসসহ হরেক রকমের মুখরোচক খাবার তৈরিতে ব্যস্ত থাকে মা ওবোনেরা।সুস্বাদু পিঠা ও পায়েস তৈরিতে আবহমান কাল থেকে খেজুরের রস ও গুড় ওতপ্রোতভাবে জড়িত।খেজুরের রস ও গুড় তৈরীর কাজ এলাকায় চলে পুরোদমে।এখন চলছে পূর্ব প্রস্তুতি।ভোমরদাহ গ্রামের গাছি আব্দুল্লা সরদার জানান প্রথমে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য বিশেষ পদ্ধতিতে গাছের মাথার এক পাশের অংশ কাটা হয়।মৌসুমের শুরুতে ব্যপক তোড়জোড় শুরু হওয়ায় একা সম্ভব হয় না।গাছের আগা কাটার জন্য অবশ্য পন্ঞ্চাস থেকে ষাট টাকা গাছ প্রতি মজুরি দিতে হয়।তিনি আরও জানান রস সংগ্রহের সময় অর্থাৎশীত মৌসুমের পুরো চার মাস জুড়ে তারা বাড়িতে খেজুরের গুড় ও পাটালী তৈরি করেন। ঐ সময় তাদের প্রতিদিন আয় হয় এক থেকে দেড় হাজার টাকা।অনেকের আবার খেজুর গাছ কেটেও সংসার চলে। এ মৌসুমে ঢাকুরিয়ার গাছিরা মনিরামপুর, রুপদিয়া,নওয়াপাড়াসহ বিভিন্ন গুড়ের হাটে হাজির হয়।কারণ এই সমস্ত হাট গুলোতে দেশের বিভিন্ন স্হান থেকে পাইকার ব্যাপারীরা এই হাটগুলোতে গুড় কিনতে আসেন।তারা এই সমস্ত হাট থেকে খেজুরের গুড় ও পাটালী ক্রয় করে সারা দেশে সরবরাহ করে।এখানকার কারিগরদের দানা পাটালী তৈরীতে ব্যাপক সুনাম থাকায় খেজুরের গুড় পাটালীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে দেশব্যাপী।এমনকী দেশের বাইরেও।অনেকে এখন লাভজনক ব্যবসা হিসাবে এই ব্যবসাকে বেছে নিয়ে সরাসরি গাছিদের কাছ থেকে অর্ডার দিয়ে পাইকারী দরে কিনে দেশের বাইরে ও সরবরাহ করছে যশোরের সুস্বাদু এই গুড় পাটালী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here