আজ আঙ্খিত সেই অনুষ্ঠান / দস্যুদের পূনর্বাসন করতে শ্যামনগরে র‌্যাবের হেলিকপ্টার থেকে লিফলেট বিতরণ

0
95

সামিউল মন্টি ঃ সাতীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবনে দস্যুমুক্ত তৃতীয় বর্ষ উপলে র‌্যাবের হেলিকপ্টারে লিফলেট বিতরণ করতে দেখা যায়। জানা গেছে, রবিবার দুপুর ১২ টায় হটাৎ র‌্যাবের এক হেলিকপ্টার আকাশে চক্কর দেয়। উক্ত হেলিকপ্টারের শব্দ শুনে উৎসুক জনতা আকাশের তাকিয়ে থাকে। এসময় র‌্যাবের প থেকে হাজার হাজার লিফলেট আকাশ থেকে ফেলে দেওয়া হয়। আকাশ থেকে লিফলেট ফেলার সাথে সাথে উৎসুক জনতা লিফলেট কুড়াতে থাকেন। উক্ত লিফলেটে দস্যুদের পূর্নবাসন করাসহ সকল সুযোগ সুবিধাগুলো তুলে ধরা হয়। এদিকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে জলদস্যু মুক্ত হওয়ার তিন বছর পূর্তি হচ্ছে আজ। বনটিতে এখন শান্তির সুবাতাস বইছে। অপহরণ- হত্যা এখন আর নেই। জেলেদের কষ্টার্জিত উপার্জনের ভাগও কাউকে দিতে হচ্ছে না। মৌওয়াল, বাওয়ালী, বনজীবী, বন্যপ্রাণী এখন সবাই নিরাপদ। নির্বিঘ্নে আসছে দর্শনার্থী- পর্যবেক, জাহাজ বণিকেরা। এভাবেই সরকারের দূরদর্শিতায় সুন্দরবন অর্থনৈতিক গতিশীলতা ব্যাপক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। এদিকে দস্যুমুক্ত সুন্দরবনের তিন বছর পূর্তি ও জলদস্যু পুনর্বাসন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে এলিট ফোর্স র‌্যাব। আজ সোমবার বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা কমপ্লেক্স মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। ২০১৮ সালের এই দিনে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুন্দরবনকে আনুষ্ঠানিক ভাবে দস্যুমুক্ত এলাকা ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন থেকে সুন্দরবন দস্যুমুক্ত। আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দস্যুরা আত্মসমর্পণ করেছে।’ সুন্দরবনে গড়ে প্রায় ১ লাখ দেশি- বিদেশি পর্যটক প্রতিবছর ঘুরতে যান। যেই সুন্দরবন ২৪ ঘণ্টায় ছয় বার রূপ পাল্টায়, যেই সুন্দরবন বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদের খনি। যেই সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার আছে, সেই সুন্দরবন এখন দস্যুমুক্ত। সুন্দরবন হলো বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত একটি প্রশস্ত বনভূমি যা বিশ্বের প্রাকৃতিক বিস্ময়াবলির অন্যতম। গঙ্গা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীত্রয়ের অববাহিকার বদ্বীপ এলাকায় অবস্থিত এই অপরূপ বনভূমি বাংলাদেশের খুলনা, সাতীরা ও বাগেরহাট জেলা এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দুই জেলা উত্তর চব্বিশ পরগনা ও দণি চব্বিশ পরগনা জুড়ে বিস্তৃত। সমুদ্র উপকূলবর্তী নোনা পরিবেশের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে পরিচিত সুন্দরবন বিশ্বের সর্ববৃহৎ অখণ্ড বনভূমি। ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার জুড়ে গড়ে ওঠা সুন্দরবনের ছয় হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটার পড়েছে বাংলাদেশে এবং বাকি অংশ ভারতে। সুন্দরবনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, স্বাদুপানি জলাভূমির বনাঞ্চল। সুন্দরবনের এক-তৃতীয়াংশই নদী-খাল আবৃত। স্বাদুপানির জীবমণ্ডলের পানি সামান্য নোনা এবং বর্ষাকালে এই লবণাক্ততা কিছুটা হ্রাস পায়, বিশেষ করে যখন গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানির কারণে নোনাজল দূর হয় এবং পলিমাটির পুরু আস্তরণ জমা হয়। মৎস্য সম্পদের প্রাচুর্যের কারণে এ নদী-খাল ঘিরেই একসময় সুন্দরবনে গড়ে উঠেছিল বিশাল জেলে সম্প্রদায়। ১৯৮৫-৮৬ সালের দিকেও সুন্দরবনের নদী- খাল থেকে মাছ পাওয়া যেত ২০ হাজার টনের কাছাকাছি। এদিকে মাছের এই বিশাল বাজারের কারণে এসব এলাকায় এক দিকে যেমন নতুন নতুন জেলে এই পেশায় আসে, অন্যদিকে এই অঞ্চলে জেলের ওপর প্রভাব বিস্তার করার জন্য এক শ্রেণির দস্যু নিজেদের আস্তানা গড়ে তোলে। সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া বিভিন্ন ট্রলার এবং ট্রলারের জেলেদের জিম্মি করে টাকা আদায় করত তারা। দস্যুরা জেলে ও বনজীবীদের কাছ থেকে নিয়মিত মোটা অংকের চাঁদা না পেলে অপহরণ করত, কখনো টাকা না পেয়ে মারধর করত। এক পর্যায়ে জেলেরা অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ঋণ করে টাকা দিয়ে পরিবারের সদস্যদের ছাড়িয়ে আনত। এ দস্যুদের মধ্যে ছোট -বড় বিভিন্ন দল থাকলেও কখনো কখনো নিজেদের কোন্দলের কারণে দল ভেঙে একাধিক দস্যু দল গড়ে ওঠে। এর পরে এলিট ফোর্স র‌্যাব এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দস্যু মুক্ত হয় সুন্দরবন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here