মানব পাচারের নিরাপদ রুট যশোরে ট্রাইব্যুনাল দাবি

0
70

মালিকুজ্জামান কাকা, যশোর : নারী ও শিশু পাঁচারের শক্তিশালি কয়েকটি সিন্ডিকেট ও তাদের এজেন্ট যশোরসহ দক্ষিনাঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। প্রতি বছর এরা হাজার হাজার নারী ও শিশু বিদেশে পাচার করে থাকে। এই সিন্ডিকেট গুলো সিংহ ভাগ নারী ও শিশু ভারতে পাচার করে। মানব পাচার দমনে যশোরে একটি ট্রাইব্যুনাল দাবি করা হচ্ছে দীর্ঘ দিন ধরে। সর্বশেষ মানব পাচার ও অনিয়মিত অভিবাসন থেকে নারী ও শিশুদের সুরা বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে এ দাবি জানানো হয়। যশোর শহরের বিভিন্ন মহল্লা, শহরতলী এবং সীমান্তবর্তী শার্শা, বেনাপোল, ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলায় নারী ও শিশু পাচারকারিরা বেপরোয়া। এর বাইরে মনিরামপুর, বাঘারপাড়ায় রয়েছে এদের শক্ত ঘাটি। পাশ্ববর্তী জেলা ঝিনাইদহ ও সাতক্ষীরায় এই সিন্ডিকেটের প্রসার বিদ্যমান। শার্শা উপজেলার প্রত্যেকটি গ্রামে নারী ও শিশু পাচারকারি বা তাদের এজেন্ট আছে। বিশেষ করে নাভারন, বাঁগাচড়া, পুটখালী, গোগা, কন্যাদহ, ধলধা রামপুর, ধান্যখোলা, বেড়ী নারানপুর, নিজামপুর, পাকশী, টেংরালী, কাশিপুর, বাহাদুরপুর, দৌলতপুর, উলাশী, জামতলা, সাতমাইলে এই নারী ও শিশু পাঁচার সিন্ডিকেটের শক্ত অবস্থান অনেক বছর ধরে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের বিভিন্ন মামলা তদন্তে এই বিষয়টি উঠে এসেছে। ভয়ঙ্কর বিষয় এই, এসব তদন্তে জনগন কতৃক নির্বাচিত জন প্রতিনিধি ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বর নারী ও শিশু পাঁচারে জড়িত থাকার ভয়ঙ্কর তথ্য মিলেছে। কোন কোন ক্ষেত্রে পাঁচারকারী চক্রের হোতা এমপির লোক বনে গেছেন। দীর্ঘ দিন ধরে পাচারের বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক আঞ্চলিক নেতা, নির্বাচিত জন প্রতিনিধি, ঘাট মালিক, ঘাট এলাকার চোরাকারবারিরা জড়িত। এ কারনে যশোরের আদালতে নারী ও শিশু সংক্রান্ত মামলার সংখ্যাও বেশি। তবে পাচারের তুলনায় মামলার হার যথেষ্ট কম। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রতি নিয়ত নারী ও শিশু পাচার অব্যাহত। দিনে যদি নাও হয় তবে রাতের অন্ধকারে চোরাকারবারি ও তাদের লোকজন এসব অপকর্মে জড়িত থাকে। এরা প্রভাবশালী বিধায় পাচারের শিকার নারী ও শিশু ও তাদের অভিভাবকদের কিছুই করার থাকেনা। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান জানান, ভারতে মানব পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে যশোরকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এজন্য ঢাকার পরেই যশোরে মানবপাচারের ঘটনা সবচেয়ে বেশি। এ জেলায় বর্তমানে মানব পাচারের ৬১৩টি মামলা বিচারাধীন। অথচ মাত্র ২৮টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। ৩৬টি মামলা চলছে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে। সাড়ে ৫০০ এর বেশি মামলা অথচ সংশ্লিষ্ট মামলা নিষ্পত্তির ট্রাইব্যুনাল নেই যশোরে। এ কারনে সমস্যা তীব্র। মামলা বাড়ছে কিন্ত মামলা নিষ্পত্তির হার কম। মানব পাচার দমনে যশোরে ট্রাইব্যুনালের দাবি জানিয়ে তিনি জানান, ‘মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে প্রত্যেক জেলায় ট্রাইব্যুনাল থাকার কথা থাকলেও মাত্র সাতটি বিভাগীয় শহরে এই ট্রাইব্যুনাল রয়েছে। যশোরের বিচারক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন সুধীজনদের দাবি যশোর যেহেতু দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর পাচার প্রবণ জেলা বা এলাকা, এজন্য এ জেলায় একটি ট্রাইব্যুনাল থাকা খুবই জরুরি। এটি একটি প্রয়োজনীয় চাহিদা বলে অনুমিত হয়। সর্বশেষ ২৮ অক্টোবর প্রেসকাব যশোর মিলনায়তনে এ ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামে এই দাবি জানানো হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সারাদেশে মানবপাচারের প্রায় ছয় হাজার মামলা বিচারাধীন। পাচারের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ শতাংশ নারী ও ১১ শতাংশ শিশু রয়েছেন। আর গত নয় বছরে মাত্র চার শতাংশ মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। এটি একটি নিম্নমুখী গ্রাফ যা আমাদের কাম্য নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here