ই-পাসপোর্ট মুদ্রণের মাইল ফলক অর্জনে যশোর

0
114

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরে আন্তর্জাতিকমানের ই-পাসপোর্ট ছাপা শুরু হয়েছে অক্টোবরে। এতে করে খুলনা বিভাগের দশ জেলার মানুষের ভোগান্তি দূর হয়েছে। গেল মাসে যশোর পাসপোর্ট অফিসে ৪৬৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দশ বছর মেয়াদি বিভাগীয় এ কর্মযজ্ঞ শুরু হয়। যশোর পাসপোর্ট অফিস সূত্র বলছে, দেশে হাতে লেখা পাসপোর্টের কার্যক্রম শেষ হবার পর শুরু হয় মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি)। ২০২০ সালের জুন মাস নাগাদ শেষ হয় ডিজিটাল এ পাসপোর্টের কার্যক্রম। এরপর দেশ ই-পাসপোর্টের যুগে প্রবেশ করে। বিশ্বের ১২০টি দেশে বর্তমানে ইলেক্ট্রনিক্স পাসপোর্ট কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর ফলে ই-পাসপোর্টের আধুনিক মাইল ফলকে পা রাখল ডিজিটালের প্রথম জেলা যশোর। দণি এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমে প্রথম। এ তালিকায় বাংলাদেশ সারা বিশ্বের মধ্যে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। এ কারণে ই-পাসপোর্টে বাংলাদেশের নাম লাল রঙে ছাপা রয়েছে। অত্যাধুনিক সকল প্রযুক্তি না থাকায় অন্যান্য দেশের ই-পাসপোর্টে সে সব দেশের নাম কালো রঙে ছাপা হয় বলে সূত্রটি জানায়। রাজধানীর পর যশোর দ্বিতীয় হিসাবে এই অর্জনের মাইল ফলকে নাম লিখিয়েছে। ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, মিয়ানমারসহ দণি এশিয়ার অন্যান্য দেশে এখনও ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম শুরু হয়নি। এদিক থেকে বাংলাদেশ অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। এছাড়া উন্নত দেশ গুলোতে ই-পাসপোর্টধারীদের জন্য আলাদা গেট ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যে গেটে এই পাসপোর্ট যেতে পারেন। এেেত্র তাকে কোন ইমিগ্রেশন করতে হয় না। অপেক্ষা বা হয়রানি দুটোই এ কারনে কম হয়। যশোর অফিস সূত্রে জানা যায়, স্বয়ং ক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় ২০২০ সালের ২৮ জুন যশোর অফিসে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর চলতি বছরের গত ৪ অক্টোবর যশোর অফিসে ই-পাসপোর্ট ছাপা কার্যক্রম শুরু হয়। এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহা পরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ূব চৌধুরী। এরপর গত ২৮ দিনে প্রায় আট সহস্রাধিক ই-পাসপোর্ট ছাপা হয়েছে। এখানে গড়ে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ৬০০ পাসপোর্ট ছাপা হচ্ছে। দশদিন যান্ত্রিক ক্রটির কারণে ছাপা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। অক্টোবরের শেষ রোববার ছাপা হয়েছে ৫৪০টি পাসপোর্ট। এ কাজের তদারকির জন্য রয়েছেন তিনজন বিশেষজ্ঞ ও জার্মানির একজন বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি। তাদের তত্ত্বাবধানে মুদ্রণের সমস্ত কাজ পরিচালিত হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত তা সফল ভাবেই পরিচালিত হয়েছে। তবে এ কাজের জন্য লোকবল সঙ্কটে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের। এ জন্য অফিসে নতুন কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারি নিয়োগ দেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। খুলনা বিভাগের ১০ জেলার পাসপোর্ট যশোরে ছাপা হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষ সুবিধা ভোগ করছে। তাদেরকে আর রাজধানী ঢাকার অপোয় বসে থাকতে হচ্ছে না। যশোর থেকে মুদ্রণ করা পাসপোর্ট স্ব স্ব জেলায় পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। ই-পাসপোর্টে হাতে লেখা কাগজ ব্যবহারের বালাই নেই। পুলিশ ভেরিফিকেশন ও টাকা জমা থেকে শুরু করে এ সংক্রান্ত সবকিছুই করা হয় অনলাইনে। ই-পাসপোর্ট হলো একটি বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট, যাতে এমবেডেড ইলেট্রনিক্স মাইক্রো প্রসেসর চিপ রয়েছে। এ চিপের মধ্যে রয়েছে বায়োমেট্রিক তথ্য যা পাসপোর্টধারীর পরিচয় প্রমাণের জন্য ব্যবহার করা যায়। এতে রয়েছে ব্যবহারকারীর একাধিক ছবি, দশ আঙ্গুলের ছাপ, চোখের আইরিশসহ তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক যাবতীয় তথ্য। ফলে পাসপোর্টধারীকে সহজে শনাক্ত করা যায়। এ কারণে পাসপোর্ট জালিয়াতির কোন সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে যশোর পাসপোর্ট অফিসের উপ পরিচালক মোহাম্মদ নূরুল হুদা বলেন, ৪ অক্টোবর থেকে যশোর পাসপোর্ট অফিসে ছাপা সংক্রান্ত বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু হয়। পাসপোর্ট ছাপার যে কার্যক্রম আগে ঢাকায় হতো, সেটি এখন থেকে যশোরে করা হচ্ছে। মাঝে একটু সমস্যা হলেও বর্তমানে স্বাভাবিক নিয়মে যশোরে পাসপোর্ট মুদ্রনের কাজ চলছে। যশোরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ুব চৌধুরী জানান, ৪৬৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দশ বছর মেয়াদি বিভাগীয় এ প্রকল্প জন গুরুত্ব বিবেচনায় যশোরে স্থাপন করা হয়েছে। যেহেতু এখানে আইটি পার্কে ডাটা সেন্টার রয়েছে, সেহেতু ডিজাস্টারে এটি ব্যাকআপ হিসেবে কাজ করবে ও তথ্য আদান প্রদান সহজ হবে। তিনি বলেন, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ঢাকার বাইরে এটিই প্রথম প্রকল্প, যা যশোরে স্থাপন করা হয়েছে। এ প্রকল্প থেকে খুলনা বিভাগের দশ জেলার মানুষ উপকৃত হবে। ইতিমধ্যে সেই সেবা শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত পরিপত্র অনুযায়ি, ই-পাসপোর্টের সর্বোচ্চ ফি ধরা হয়েছে ১২ হাজার টাকা আর সর্বনিম্ন সাড়ে তিন হাজার টাকা। এতে কোনো ভ্যাট সংযুক্ত হবে না। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য সর্বোচ্চ ফি ২২৫ ডলার এবং সর্বনিম্ন ফি ১০০ ডলার ধরা হয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে শ্রমিক ও শিার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ফি ২২৫ ডলার এবং সর্বনিম্ন ফি ৩০ ডলার ধরা হয়েছে। সবেেত্র ৪৮ ও ৬৪ পৃষ্ঠার হবে ই-পাসপোর্ট। তিন ক্যাটাগরিতে দেয়া হবে ই-পাসপোর্ট। সে অনুয়ায়ী ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানে কাগজ পত্র সত্যায়নের ঘর উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। ৪৮ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৩৫০০ টাকা, জরুরি ফি ৫৫০০ টাকা ও অতি জরুরি ফি ৭৫০০ টাকা এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৫০০০ টাকা, জরুরি ফি ৭০০০ টাকা ও অতি জরুরি ফি ৯০০০ টাকা। এ ছাড়া বাংলাদেশে আবেদনকারীদের জন্য ৬৪ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৫৫০০ টাকা, জরুরি ফি ৭৫০০ টাকা ও অতি জরুরি ফি ১০৫০০ টাকা এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৭০০০ টাকা, জরুরি ফি ৯০০০ টাকা ও অতি জরুরি ফি ১২০০০ টাকা। তবে যশোরে কিছু আনুষঙ্গিক ফি যোগ হয়েছে সাধারন খাতে। অনলাইনেই পূরণ করা যাবে ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র। এ ছাড়া পিডিএফ ফরম্যাট ডাউনলোড করে কম্পিউটারে ফরমটি পূরণ করা যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here