বহু বিবাহের হোতা ধোপাদীর জাহিদ যৌতুক না দেওয়ায় গৃহবধূ উর্মী পিতার বাড়ি ফেরত

0
101

মালিকুজ্জামান কাকা : যৌতুকের দাবিতে যশোরে এক গৃহবধূ মারধোর খেয়ে স্বামী গৃহ ছাড়া হয়েছেন। তিনি বর্তমানে নিজ পিতার বাড়িতে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। যৌতুকের দাবি পরিশোধ না করায় ঐ গৃহবধূ বর্তমানে শহরের শঙ্করপুর চোপদার পাড়ায় পিতৃবাড়িতে পতিত দশায় রয়েছেন। দরিদ্র পিতা এই সা¦ামী হারা কন্যাকে নিজ বাড়ি ফেরত এনে চরম বেকায়দায় পড়েছেন। গৃহবধূ আয়শা আক্তার উর্মী (১৯) ইকবাল হোসেনের কন্যা। তার স্বামী অভয়নগর উপজেলার ধোপাদী নতুনবাজার এলাকার রশিদ মোল্যার পুত্র জাহিদ হোসেন। ভূক্তভোগী গৃহবধূ উর্মী মঙ্গলবার কোতয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন। ঘটনার বিবরনে জানা গেছে, গত ২৯/১০/২১ তারিখে জাহিদ হোসেন তার স্ত্রী আয়শা আক্তার উর্মীকে মারধোর করে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে জাহিদ বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। সে স্পষ্টত: জানিয়ে দেয় দুই লাখ টাকা মূল্যের মটর সাইকেল বা নগদ টাকা যৌতুক না দিলে এই বউ নিয়ে আর ঘর সংসার করবেনা। কন্যার কাছে খবর পেয়ে তার পিতা ইকবাল হোসেন, মা সুফিয়া বেগম, চাচী, চাচাতো ভাই সদলবলে ধোপাদী নতুন বাজার এলাকায় উর্মীর শশুরবাড়ি যায়। এরা সেখানে গেলে জাহিদ ও তার পরিবারের লোকজন সকলকে মারধোর ও রক্তাক্ত জখম করে। উর্মী অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহন করে আহত ও ব্যথিত পিতা-মাতা, চাচী চাচাতো ভাইয়ের সাথে পিতার বাড়িতে ফেরত চলে আসে। উর্মীর পিতা দরিদ্র। তার যেমন যৌতুক দেওয়ার ক্ষমতা নেই। আর সে কখনোই যৌতুক দিয়ে অপরাধ করবেনা বলে জানিয়ে দিয়েছে। এতেই সংসার স্বপ্ন শেষ উর্মীর। পিতার বাড়িতে পড়ে থাকলেও স্বামী বা তার পরিবারের কেউ তার খোজ খবর নিচ্ছেনা। উর্মী জানায়, জাহিদ হোসেনের সাথে তার এক লাখ টাকা দেনমোহরে ২০/০১/২১ তারিখে বিবাহ হয়। বিয়ের রেজিস্ট্রেশনের সময় তার শশুরবাড়ির লোকজন দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। সে ঘটনার স্বাক্ষী রয়েছে তার পরিবারের লোকজন সহ বিয়ে বাড়ির উপস্থিত সকলেই। তখন উর্মীর পিতা যৌতুক দেবেনা জানালে তারা চুপচাপ বিয়ে করে বাড়ি চলে যায়। এরপর থেকেই জাহিদ ও তার পরিবারের লোকজন উর্মীর উপর তুচ্ছ কারনে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। বিয়ের পর থেকে তার উপর কারনে অকারনে স্বামী ও শশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতন করতো। সে সময় উর্মী জানতো না জাহিদ বিয়ে পাগল ব্যক্তি। তার বহু বিবাহের কথা সে শশুরবাড়ী যাওয়ার পরেই জানতে পারে। ২৯ অক্টোবর সর্বশেষ ঘটনার দিনেও সে বলে দুই লাখ টাকা যে যৌতুক দেবে তাকে বিয়ে করবে। এদিন আহত হয়ে দুই দফা মার খেয়ে সে এক কাপড়ে স্বামীর বাড়ি থেকে বের হয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন। পিতার বাড়ি এসে তিনি কাপড় ও খাওয়া দাওয়াসহ সকল সঙ্কটে পড়েছেন। এমনকি তার অষুধ পত্র কেনাটাও ঠিকঠাক হচ্ছেনা। অভয়নগর থানার এএসআই তিতাস ঘটনা স্থলে তদন্তে যান। তিনি জানান, জাহিদের বাড়ি তদন্তে গিয়েছিলেন। সেসময় জাহিদ বাড়ি ছিল না। তার পিতা আব্দুর রশিদ মোল্যার সাথে কথা হয়েছে। এই পিতা জানান জাহিদ বাড়ি নেই। এরপর আশেপাশের লোকজন জানায় ২/৩ মাস পর পর জাহিদ একটি করে বিয়ে করে আবার তালাক দেয়। কোন স্ত্রীকে কিছু টাকা দেয় আবার কোন স্ত্রীকে জাহিদ এক টাকা না দিয়ে মারধোর করে তাড়িয়ে দেয়। স্থানীয়দের বর্ননা মতে জাহিদের পরিবার একটি বাজে ঘরানার কোন্দল প্রিয় পরিবার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here