যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে ‘আপিল নিষ্পত্তির আগেই দু’আসামীর ফাঁসি কার্যকরের’ ঘটনায় তোলপাড়!

0
98

স্টাফ রিপোর্টার : ‘আপিল নিষ্পত্তির আগেই যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা মামলার দুই আসামির ফাঁসি কার্যকরের ঘটনার খবরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে চুয়াডাঙ্গা জেলার মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ার মেম্বর হত্যা মামলায় দুই আসামি পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা মোকিম ও ঝড়–র ফাঁসি কার্যকর হয়। কারা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে, আইনগত সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মোকিম ও ঝড়–র ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমারী ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামের মৃত রবকুল মন্ডলের মেঝো ছেলে মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ার হোসেনকে ১৯৯৪ সালের ২৮ জুন গ্রামের বাদল সর্দ্দারের বাড়িতে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির কতিপয় চরমপন্থি কুপিয়ে হত্যা করে। ওই দিনই নিহতের ভাই মুক্তিযোদ্ধা অহিম উদ্দীন বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় ২১ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ চৌদ্দ বছর পর ২০০৮ সালের ১৭ এপ্রিল এ হত্যা মামলার রায় ঘোষিত হয়। রায়ে পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির দুই আঞ্চলিক নেতা দুর্লভপুরের মৃত মুরাদ আলীর ছেলে আব্দুল মোকিম ও একই গ্রামের মৃত আকছেদ আলীর ছেলে ঝড়ুসহ ৩ জন আসামিকে মৃত্যুদ-াদেশ এবং দুর্লভপুরের মৃত কুদরত আলীর ছেলে আমিরুল ইসলাম ও একই গ্রামের আবু বক্করের ছেলে হিয়াসহ ২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দেওয়া হয়। বাকি ১৬ জন আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
মামলার রায় ঘোষণার পর উচ্চ আদালতে আসামীর স্বজনরা আপিল করেন। হাই কোর্টের আপিল বিভাগে ওই আবেদনের শুনানী শেষে এক রায়ে ফাঁসির দন্ডাদেশপ্রাপ্ত এক আসামি ও যাবজ্জীবন কারাদ-াদেশপ্রাপ্ত ২ জন আসামি আমিরুল ইসলাম ও হিয়ার দ-াদেশ মওকুফ করা হয়। মোকিম ও ঝড়–র ফাঁসির আদেশ বহাল থাকে। এরপর ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর রাত পৌনে ১২টায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে মোকিম ও ঝড়–র ফাঁসি কার্যকর হয়।
এদিকে, বুধবার ‘আপিল নিস্পত্তির আগেই যশোর কারাগারে ২০১৭ সালে দুই আসামির ফাঁসি কার্যকর হয়েছে’-এমন খবরে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। কারাগার সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আইনগত সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মোকিম ও ঝড়–র ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। আপিল বিভাগে মৃত্যুদ- বহাল থাকার পর এই দুই আসামি মহামান্য রাষ্ট্রপতি’র কাছে ‘মৃত্যুদ- মওকুফের আবেদন’ করেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি এই আবেদন নামঞ্জুর করেন। ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সহকারী সচিব মোহাম্মদ আলী স্বাক্ষতির এক পত্রে আবেদন নামঞ্জুরের বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। এরপর আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ১৬ নভেম্বর রাত পৌনে ১২টায় তাদের ২ জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ওই রাতেই নিহত ২ জনের লাশ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে কারা কর্তৃপক্ষ। সে সময় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলর ছিলেন আবু তালেব। বর্তমান জেলর তুহিন কান্তি খান বলেন, এ ধরনের খবর শোনার পর আমি নিজে ফাইল পত্র পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছি। কোথাও কোন ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়নি। রাষ্ট্রীয় আইনগত সকল বিধিবিধান মেনেই দুই আসামীর ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।
তবে এ ব্যাপারে খুলনা বিভাগীয় কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি-প্রিজন) মো. ছগির মিয়া সাংবাদিকদের জানান, ‘আপিল নিষ্পত্তির আগেই যশোর কারাগারে ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর দুই আসামির ফাঁসি কার্যকর হয়েছে’-এমন খবর তাদের নজরেও এসেছে। কারা কর্তৃপক্ষ কাগজপত্র-ফাইল পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here