চৌগাছার পাশাপোল ও জগদীশপুরে নৌকা এগিয়ে

0
94

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের চৌগাছার পাশাপোল ও জগদীশপুর ইউনিয়ন পরিষদে বিপুল ভোটে নৌকা মার্কা জিতবে বলে মন্তব্য করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। আগামী ১১ নভেম্বরের ইউপি নির্বাচনে পাশাপোল ইউনয়িনের বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জগদীশপুর ইউনয়িনের বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তবিবর রহমান খান বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন বলে তাদের দাবি। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, পাশাপোল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন তিনজন প্রার্থী। তাঁরা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বর্তমান চেয়ারম্যান অবাইদুল ইসলাম সবুজ। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান শাহিন রহমান ও ইউনয়িন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতলেব আহমেদ। তাঁদের দু’জনকেই সম্প্রতি দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। অবাইদুল ইসলাম সবুজ ইউনিয়নের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান। প্রায় পাঁচ বছর চেয়ারম্যান থাকাকালে তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছেন। ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের কাছেও তিনি সমান জনপ্রিয়। ইউনিয়নের পাশাপোল, বানুরহুদা, খলশী, রঘুনাথপুর, বুড়িন্দিয়া, দশপাকিয়া এলাকায় রয়েছে তাঁর একচেটিয়া ভোট। এছাড়াও রানিয়ালি, মালিগাতী, শুরেস্বরকাঠি, কালিয়াকুন্ডি, বড়গোবিন্দপুর, বিল এড়োল, হাউলি, দুড়িয়ালী, বাড়িয়ালীতেও তাঁর জনপ্রিয়তা রয়েছে। অন্যদিক তাঁর প্রতিপক্ষ শাহিন রহমান ইউনিয়নে নৌকা নিয়ে নির্বাচিত সাবেক জনপ্রিয় চেয়ারম্যান আবুল কাশেম হত্যা মামলার আসামী। তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ। চেয়ারম্যান থাকাকালে তিনি ইউনয়িনের দেড়ডজন হিন্দ পরিবারকে ভারতে চলে যেতে বাধ্য করেছেন। তাঁর সময়ে ভিজিএফ, ভিজিডিসহ নানা কার্ড বিতরণে রয়েছে অনিয়মের অভিযোগ। টাকা ছাড়া তাঁর সময়ে কোন কার্ড কেউ পাননি। অন্যপ্রার্থী আব্দুল মতলেব সাবেক ইউপি সদস্য হিসেবে নিজের গ্রাম মৎস্যরাঙায় জনপ্রিয় হলেও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মত ভোট তিনি পাবেন না বলে ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা জানান। জগদীশপুরে বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় রয়েছেন চার প্রার্থী। তারা হলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের র্দীর্ঘদিনের সভাপতি ও তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তবিবর রহমান খান। তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদ্য বহিস্কৃত সদস্য মাস্টার সিরাজুল ইসলাম, বিএনপি সমর্থিত উপজেলা উলামা দলের সভাপতি মাওলানা রবিউল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আজাদ রহমান খান। তবে আজাদ রহমান শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করবেন না বলে জানা গেছে। তিনি নিজের চাচা তবিবর রহমানকে সমর্থন করবেন। তাছাড়া তবিবর রহমান খান তিন তিন বার বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। ইউনিয়নের জনসাধারণের মধ্যে তিনি বিপুল জনপ্রিয়। সম্প্রতি ভাতিজাকে সমর্থন করে তিনি নির্বাচন থেকে সরে যেতে চাইলে গ্রামবাসী তার বাড়ি অবরুদ্ধ করে তাঁকে নির্বাচনী প্রচারণায় নামতে বাধ্য করেন। তিনবার চেয়ারম্যান থাকাকালে তিনি ইউনিয়নের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। ইউনয়িনের রাস্তা কালভার্ট, অবকাঠামোগত উন্নয়নে তার ভুমিকা অনন্য। তাছাড়া তার ভাই বেজপার সাবেক চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল হাবিবুর রহমান খানের প্রভাব রয়েছে গোটা ইউনয়িন জুড়ে। অন্যদিকে জামায়াত-বিএনপির ভালো প্রার্থী না থাকায় ইউনিয়নের সাধারণ ভোটের সিংহভাগ পাবেন তিনি। উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আব্দুল কাদের, সহ-প্রচার সম্পাদক শফিক হায়দার লাভলু, উপজেলা যুবলীগের সদস্য হাফিজুর রহমান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহবায়ক ডা. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহবায়ক কবির হোসেনসহ সকল পর্যায়ের নেতাকমীরা একজোট হয়ে তবিবর রহমানের পক্ষে মাঠে নেমেছেন। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বদরুল আলম বলেন, এখানে নৌকার অবস্থা খুবই ভালো। এই ইউনিয়নে নৌকা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here