মহেশপুরে কুল ফুলের মধু চাষ

0
107

সাইফুল ইসলাম,মহেশপুর(ঝিনাইদহ)অফিস ঃ সাধারণত সরিষা ফুল কিংবা লিচু ফুলের সময় খামারীরা মৌমাছির মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করে থাকেন। ফলে বছরের অন্যান্য সময় অনেকটা অলস সময় কাটে তাদের। এসময় মাছি বাঁচিয়ে রাখতে প্রয়োজন হয় বাড়তি খাবারের, আসে না কোন উৎপাদন। এতে লোকসানে পড়েন মৌচাষি খামারীরা। এমন দিক বিবেচনা করে ঝিনাইদহের মহেশপুরে দ্বিতীয় বারের মত শুরু হয়েছে কুল গাছের ফুল থেকে মধু সংগ্রহ। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছর প্রথমবারের মত তিন জন খামারীর ৫৫৫ টি মৌ বাক্স থেকে তিন হাজার কেজি মধু সংগ্রহ করেছিলেন। এ বছর ১০ জন খামারীর ৯৬০ টি বাক্স থেকে পাঁচ হাজার কেজি মধু সংগ্রহের লক্ষ্যে মাত্রা রয়েছে।
ঝিনাইদহ ভারতীয় সীমান্ত এলাকা মহেশপুরের ভাটপাড়া গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন কুলের আবাদের সমারোহ। আর এসব জমির পাশেই মৌ চাষের বাক্স বসিয়েছেন মৌচাষিরা। এতে মৌমাছির মাধ্যমে কুল ফুলের পরাগায়নে সহায়তা হচ্ছে। ফলে একদিকে কুলের উৎপাদন বাড়ছে, অপর দিকে মধু আহরণ করা যাচ্ছে। সমন্বিত এই চাষে কুলচাষি ও মৌচাষি উভয়ই লাভবান হচ্ছেন। রাজবাড়ী, মাদারীপুর, রংপুর সহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে মৌচাষিরা বাক্সে (কলোনি- মৌমাছির বাক্স) নিয়ে হাজির হন কুল গাছে ফুল আসার সাথে সাথে। সাধারণত সকালে এবং বিকালের দিকে মাছি গুলো ছুটে বেড়ায় ফুলে ফুলে। সেখান থেকে মধু নিয়ে ফেরেন কলোনীতে। এই মৌসুমে গড়ে ২৫ দিনে তিন বার মধু সংগ্রহ করা যায়। এতে খরচের তুলনায় লাভও হয় দ্বিগুন ।
মাদারীপুর থেকে আশা মৌচাষি খলিলুর রহমান বলেন, কুল থেকে সংগ্রহ করা যায় খুব ভালো মানের মধু। তিনি ১৬৫ টি মৌমাছি নিয়ে এসেছিলেন তার মধ্যে ২৫% মারা গেছে। বাকি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করেন তাহলে কুল বাগানে বিষ প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকবেন কৃষক এবং আমাদের এই মাছি যদি বাগানে থাকে তাহলে বিষ প্রয়োগ না করলেও চলবে। এসব মাছি পরাগায়ন ঘটাবে তখন বিভিন্ন কীটপতঙ্গ নষ্ট হয়ে যাবে। অপর এর মৌচাষি মতিয়ার রহমান বলেন, তার ৪০টি কলোনির মধ্যে ৩০টি কলোনি থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৪০ কেজি মধু পেয়েছেন। আর এই মধু বাজারজাত করছেন মণ প্রতি ২২শ’ টাকা করে। তিনি আরো বলেন এখানে আসা-যাওয়ার খরচ হবে ৮ হাজার টাকা। আর কয়েক দিনে ১২শ’ টাকার মধু সংগ্রহ করেছেন। তিনি আশা করছেন সামনে আরও মধু সংগ্রহ করতে পারবেন। মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান আলী জানান, এই মৌসুমে মধু উৎপাদন হয় না। ফলে খামারীদের লোকসান গুনতে হয়। তাই এই লোকসানকে পিছনে ফেলে উৎপাদন বাড়িয়ে চাষীদের লাভবান করতে কুল গাছের ফুল থেকে মধু সংগ্রহে চাষীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। মৌমাছি কুল ফুলে উড়ে উড়ে বসে মধু সংগ্রহ করে। এতে ফুলে সহজে পরাগায়ন ঘটে। তাই কুল খেতের পাশে মৌ চাষের বাক্স স্থাপন করলে কুলের ফলন বাড়ে। পাশাপাশি মৌচাষিরা মধু আহরণ করে লাভবান হন। তিনি আরো বলেন মৌচাষিদের মধু আহরণের প্রশিণের পাশাপাশি মধু সংরণের প্রশিণের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সংরণ করতে পারলে মৌচাষিরা আরও বেশি লাভবান হতে পারবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here