ফুল বিপণন কেন্দ্র চালুর অপেক্ষায় গদখালী পানিসারার চাষীরা

0
138

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারি সুবিধার আওতায় আসছেন এতদ অঞ্চলের ফুল চাষীরা। প্রাথমিক ভাবে এই সুবিধা পাবেন ৮০০০ চাষি। আগামি ডিসেম্বর মাস নাগাদ যশোর ও ঝিনাইদহ দুই জেলায় চারটি ফুল বিপণন কেন্দ্র চালুর আন্তরিক চেষ্টা করছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এই চারটি কেন্দ্র চালু হলে এই অঞ্চলের ফুল চাষিরা উপকৃত হবেন। যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ও পানিসারায় দুটি বিপণন কেন্দ্র স্থাপন করার উদ্যেগ নেওয়া হয়েছে। ডিসেম্বরে খেত থেকে তোলা ফুল চাষিরা যাতে এইসব বিপণন কেন্দ্রে বিক্রি করতে পারেন সেই ল্েয চেষ্টার কমতি নেই। ফুল বিপণন কেন্দ্রে চাষিরা তাদের ঘাম ঝরানো পণ্য বিক্রি করতে পারলে অনেক ধরনের ক্ষয় তি লোকসান থেকে রা পাবেন। রোদে পুড়ে ফুলের মারাত্মক কোনো তি হবে না। নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রা পাবে উল্লেখযোগ্য পরিমান ফুল। ফুল বিপণন কেন্দ্র নির্মাণের সর্বশেষ অবস্থা জানতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের একটি টিম ৬ নভেম্বর যশোর ও ঝিনাইদহের চারটি ফুল বিপণন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছে। যশোরে ফুল বিপণন কেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ও পানিসারা এলাকায়। ঝিনাইদহে হচ্ছে গান্না ও বালিয়াডাঙ্গায়। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে একই মডেলে এই চারটি কেন্দ্র নির্মাণ করছে। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ডক্টর মুহাম্মদ আব্দুর রউফের নেতৃত্বে যুগ্মসচিব রবীন্দ্র শ্রী বড়ুয়া, আইএমইডির মহাপরিচালক আফজাল হোসেন, পরিকল্পনা কমিশনের উপসচিব মোহাম্মদ রাজীব সিদ্দিকী, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক দেওয়ান আসরাফুল হোসেন ও বিএডিসির প্রধান প্রকৌশলী (নির্মাণ) আব্দুল করিম পরিদর্শনে আসেন। আগামী ডিসেম্বরে যাতে ফুলের ভরা মৌসুমে এ বিপণন কেন্দ্র চালু করে সুবিধাভোগীরা ব্যবহার করতে পারেন সেই নির্দেশনা প্রদান করেন উচ্চ পর্যায়ের এই টিমের কর্মকর্তারা। এই টিমকে নানাভাবে সহযোগিতা করেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের জেলা বাজার কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খান। সুবিধা পাবেন ৮০০০ ফুলচাষী। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ফুল চাষিকে মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের হাত থেকে রা করতে এসব বিপণন কেন্দ্র স্থাপনের কাজ করেছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। এসব বিপণন কেন্দ্র স্থাপিত হলে ফুলচাষিরা আড়তদারদের হাত থেকে বা জিম্মী দশা থেকে রা পাবেন। ফুলের রাজধানী যশোর। আর যশোরের ফুল রানী গদখালী। যশোরে ব্যাপক পরিমাণে ফুল উৎপাদন হয়ে থাকে। এখানকার ফুল দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয়। এমনকি বিদেশেও রপ্তানি হয়। তারপরও ফুলচাষিরা ন্যায্য মূল্য পান না বলে দীর্ঘ অভিযোগ রয়েছে। এসব সমস্যায় ফুল চাষিরা স্থানীয় পর্যায়ে ঠিকমতো ফুল বিক্রি করতে পারেন না। তাদের জন্যে নির্দিষ্ট কোনো মার্কেট নেই। যে কারণে চাহিদা মতো মূল্য তারা পান না- এমন বক্তব্য কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের। এসব অবস্থা বিবেচনা করে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ফুলের রাজধানী যশোরে দ্ইুটি ফুল বিপণন কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। জেলা বাজার কর্মকর্তা জানান, প্রতিটি বিপণন কেন্দ্রের জন্যে ২০ শতক করে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কৃষককে মধ্যস্বত্ত্বভোগী, বিশেষ করে আড়তদারদের হাত থেকে রা করতে স্থাপন করা হচ্ছে বিপণন কেন্দ্র। কৃষক তাদের উৎপাদিত ফসল নিকটস্থ কেন্দ্রে আনবেন। সেখান থেকে সরাসরি পাইকাররা কিনে নিবেন। এরমধ্যে কোনো আড়তদার কিংবা মধ্যস্বত্ত্বভোগী থাকবে না। ফলে, তারা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কৃষকের ঘাম ঝরিয়ে উৎপাদিত ফসলের অর্থে আড়তদারসহ অন্যরা যাতে ভাগ বসাতে না পারে সেই চিন্তা করছে সরকার। তার প্রাথমিক পদপে হিসেবে ফুল বিপণন কেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু হয়। জেলায় ফুলের জোন হিসেবে পরিচিত এলাকায় এসব বিপণন কেন্দ্র স্থাপিত হওয়ায় কৃষকের পরিবহন খরচ কমে যাবে। বাঁচবে সময়ও। স্বাচ্ছন্দে তারা পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। সবমিলিয়ে কৃষক অনেক বেশি লাভবান হবেন বলে মনে করছেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে জেলা বাজার কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খান বলেন, কৃষকের স্বার্থ সংরণ করা জরুরি। তার অংশ হিসেবে যশোরে দুইটি ফুল বিপণন কেন্দ্র স্থাপনের কাজ শেষ পর্যায়ে। আগামি ডিসেম্বরে ফুলের ভরা মৌসুমে যাতে এই দুই কেন্দ্র ব্যবহার করা যায় সেই চেষ্টা চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here