স্বরুপদাহ গ্রামে তিন বন্ধুর শিং মাছ চাষে সফলতা

0
118

মালিক্জ্জুামান কাকা : যশোরের শার্শা উপজেলায় তিন বন্ধু মিলে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে দেশি শিং মাছ চাষ প্রকল্প গড়েছেন। মৎস্য অধিদপ্তর থেকে কোনো প্রশিণ ছাড়াই তাদের এই মাছ চাষ দেখে এলাকায় আরো অনেকে শিং মাছ চাষের উদ্যোগ নিয়েছে। স্বশিতি ও বেকার এই তিন বন্ধু হলেন উপজেলার স্বরুপদাহ গ্রামের মৃত মতলেব বিশ্বাসের ছেলে আফতাব হোসেন (৫০), শিবচন্দ্রপুর ওয়াপদাহ খাল পাড়ের বাসিন্দা মৃত রায়হান সর্দ্দারের পুত্র আব্দুর রশিদ (৪৫) ও মতিয়ার রহমানের ছেলে সোহাগ হোসেন (৩৫)। ৩২ শতকের একটি পুকুরে শতাংশ প্রতি চার গ্রাম ওজনের পাঁচ হাজার শিং মাছের পোনা মজুদ করেন। দিনে দুইবার (সকাল ও রাতে) মাছের খাদ্য প্রয়োগ করেন। পুকুরের ভেতরে মাছের বিষ্ঠা পরিষ্কার করার জন্য রয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির মেশিন। সারাদিনে মাছের বিষ্ঠা গুলো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পানি থেকে তুলে ফেলা হয় এবং তা আবার ব্যবহার হয় জৈব সার হিসাবে। এই জৈব সার দিয়ে মাছের খামারের পাশে বিভিন্ন সবজির চাষ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে শিং মাছ চাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন শার্শার এই তিন বন্ধু। ঝুঁকিপূর্ণ শিং মাছের আধুনিক প্রযুক্তিতে চাষ করার জন্য আগ্রহ সৃষ্টি করেছে তাদের বন্ধু আব্দুর রশিদ। তিন বন্ধুর একজন আব্দুর রশিদ। তিনি ভারতে থাকাকালিন মহারাষ্ট্রের বেলাপুরে একটি বৃহত্তম মৎস্য হ্যাচারিতে পাঁচ বছর কাজ করেছেন। সেখানে মাছের পরিচর্যার পাশাপাশি তিনি শিং মাছ চাষ করার প্রযুক্তি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং পরিপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করে দেশে ফিরে আসেন। তারপর নিজেই শিংমাছ চাষ করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু আব্দুর রশিদের পুঁজি না থাকাতে দুই বন্ধুর সহযোগিতায় তিন বন্ধু প্রথমে ১৫ কাঠার জমির একটি পুকুর লিজ নিয়ে চলতি বছরের মার্চ মাসে পুকুর তৈরি করে মাছের রেনু পোনা ছাড়েন। এরপর কিছু দিনের মধ্যেই তারা মাছের জন্য খাদ্য তৈরি করার পরিকল্পনা করে খাবার তৈরি করা মেশিন বানিয়ে নিজেদের প্রযুক্তি ব্যবহার করে মেশিন দ্বারা বয়লার ও পোল্ট্রি মুরগির নাড়ী, কেঁচো, শামুক, লবণ, খৈল, চিটা গুড় ও মধুর সংমিশ্রণে তৈরি করেন হাইপ্রোটিন জাতীয় মাছের খাদ্য। চরম অর্থ কষ্টের মাধ্যমে শুরু হয় তাদের শিং মাছ চাষের যাত্রা। তিন মাসে মাছের ওজন এক লাখে এক কেজি ছিল বর্তমানে ১০টি মাছে এক কেজিতে দাঁড়িয়েছে। মাছ চাষি আব্দুর রশিদ জানান, শিং মাছ দুই থেকে তিন মাস পর পরিচর্যার ত্রুটির কারণে লেজ বাঁকিয়ে যায়। যে কারণে মাছের গ্রোথ আসে না। সিং মাছ চাষ যে বা যারাই করুক না কেন পরিচর্যা না জানার কারণে সেই চাষি কখনই সফল হবে না। শার্শা উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমাদের শিং মাছ চাষ দেখে গেছেন এবং আমাদের কিছু টুকটাক পরামর্শ দিয়েছেন। রশিদ আরো জানান, শিং মাছ চাষে কেউ সহযোগিতা পেতে চাইলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে অবশ্যই আমরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবো। তিন বন্ধু জানায়, শার্শা উপজেলায় শিং মাছের চাষ কম এবং চাষ পদ্ধতিও নতুন। কোন প্রকার সরকারি সহযোগিতা ছাড়াই স্বশিতি এই তিন বন্ধু চরম অর্থ কষ্টে ধার দেনা করে সিং মাছ চাষে ঝুঁকে পড়ে। শিং মাছের চাষ যারা করেছেন কেউ প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি। তবে আমরা চেষ্টা করছি এবং প্রতিষ্ঠিত হব ইনশাল্লাহ। আমরা প্রকল্পে ব্যাপক আকারে আধুনিক প্রযুক্তিতে দেশীয় শিং মাছ চাষ করতে চাই। কিন্তু শুধু মাত্র ইচ্ছা শক্তি হলে সম্ভব না। অর্থেরও প্রয়োজন। তবে সরকার থেকে ুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করা হলে আমরা আরো সফলভাবে এগিয়ে যেতে পারবো। শার্শা উপজেলা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল হাসান জানান, আব্দুর রশিদসহ তিন বন্ধু মিলে স্বরূপদাহ গ্রামের ওয়াপদা খাল নামক স্থানে শিং মাছ চাষ করছেন শুনে আমি নিজে কয়েকবার দেখতে গিয়েছি। এ সময় তাদের শিং মাছ চাষের কারিগরি বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছি। সরকারিভাবে যে সমস্ত সহযোগিতা করা যায়, আমি তাদেরকে সেসব দেওয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছি এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে চাইলে আমাদের প থেকে তাদেরকে সার্বিক সহযোগিতাও করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here