গুনিনের মাধ্যমে পড়া মাটি ছিটিয়ে ইঁদুরের উৎপাত থেকে ফসল রক্ষর চেষ্টা কেশবপুরে আমন ধানখেতে ইঁদুরের আক্রমনে অতিষ্ট কৃষক

0
147

এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি : কেশবপুরে আমন ধানখেতে ইঁদুরের অত্যাচারে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ধানখেতে বিষ টোপ দিয়ে ইঁদুর সামলানো সম্ভব হচ্ছে না। ইঁদুর সামলাতে কৃষকরা কবিরাজি পদ্ধতি মাটি পড়া ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে। অন্য বারের থেকে এবার ইঁদুরের উৎপাত ব্যাপক হারে বেড়েছে। কৃষকরা অভিযোগ করেছেন ইঁদুর নিধনে এ উপজেলায় তেমন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
সরেজমিনে উপজেলার আটন্ডা, শিকারপুর, সাতবাড়িয়া, বারুইহাটি, ভালুকঘর, দেউলি, মূলগ্রাম, মজিদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ জুড়ে সবুজের সমারোহ। এ সময় জমিতে পানি না থাকার কারণে উৎপাত শুরু করেছে ইঁদুরের দল।
ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, ইঁদুর নিধনে জিংক পাউডার, গ্যাস ট্যাবলেটসহ বিভিন্ন বিষ টোপ ব্যবহার করে কোনো লাভ হয়নি। এ বছরও আমন ধানখেতে ইঁদুরের উৎপাত শুরু হলে কৃষকেরা উপজেলা কৃষি অফিস ও স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করেন। কিন্তু তাতেও আশানুরূপ সফলতা না পেয়ে অধিকাংশ কৃষক নিজের মত করে নানান পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।
উপজেলার কয়েকটি মাঠের ফসলের জমিতে গিয়ে দেখা যায়, বেড়ে ওঠা ধান গাছ কেটে নষ্ট করেছে ইঁদুর। ওই জমিতে ধান গাছগুলো হলুদ বর্ণ ধারণ করে মরে যাচ্ছে। সাবদিয়া গ্রামের কৃষক ইসমাইল হোসেন বলেন, তিনি বিষটোপ ব্যবহার করে দুই রাতে ১৫টি ইঁদুর মেরেছে। প্রতিটি ইঁদুরের ওজন আধা কেজির উপর। উপজেলার মজিদপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, ধান কেটে মাটিতে পাতানোর পর ইঁদুরের উৎপাত ঠেকাতে তিনি নিজের পোষা শিকারী বিড়াল ধান খেতে রেখে আসেন। একই গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, তিনি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ মতে সব পদ্ধতি ব্যবহারে কাজ না হওয়ায় একজন গুনীন (কবিরাজ) ডেকে এনে মন্তর দিয়ে পড়া মাটি ধান খেতে ছিটিয়ে নিয়েছেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এ বছর ৩ হাজার ৪৬৩টি ইঁদুর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঋতুরাজ সরকার বলেন, যে সমস্ত ক্ষেতের পাশে ইঁদুরের চালা রয়েছে ওই সমস্ত স্থানে বিভিন্ন ডাল পুতে রাখার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাতে করে রাতে ওই ডালে ইঁদুর নিধনকারী পাখি বসে ইঁদুর শিকার করতে পারে। তাছাড়া এলাকায় কৃষকদের দাড়াস সাপ রক্ষা করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে ফসল রায় সব উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে নিয়ে বিভিন্ন ভাবে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে ফসল রার চেষ্টা করে যাওয়া হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here