বাঙালীর নবান্ন হাতছানী যশোরে

0
220

মালিকুজ্জামান কাকা : ‘ধান কাটা হয়েছে এই হেমন্তে খেজুর গুড়ের শোভা মন্ত্রে জিরেন রসের পিঠা বানা বৌ আর পায়েশে থাকবে ঘ্রান মৌ বাঙালীর এসেছে আঙিনায় নবান্ন খোকা-খুকিদের তাই বেজায় আনন্দ’। বাঙালীর ঐতিহ্যবাহী উৎসব নবান্ন। নবান্ন শব্দের অর্থ নতুন অন্ন। নবান্ন কে বলা হয় হেমন্তের উচ্ছ্বাস। এ সময়ে নতুন ধান থেকে তৈরি হয় হরেক পিঠা, পায়েস, নতুন খেজুর রসের ীরসহ নানা খাবারের আয়োজন। আনন্দে উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে প্রতিটি বাঙালী ঘর। যশোরের সর্বত্র গ্রামে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হয়েছে। এখন চলছে মাড়াই। খেজুর গাছ দিচ্ছে জিরেন রস, আর ঘরে ঘরে চলছে নবান্ন উৎসবের আয়োজন। আর কয়েকট দিন। তার পর শুরু হবে নবান্ন উৎসব। নতুন ধান থেকে তৈরি খাবাবের ঘ্রাণে মুখরিত হবে আঙিনা ও তার চারপাশ। নতুন খেজুরের জিরেন রস ও নতুন ধানের সুঘ্রান যুক্ত ক্ষীর, পায়েশ পিঠায় সকলে মেতে উঠতে শুরু করেছে। একই সাথে সোনালী ফসল ঘরে ওঠার আনন্দে সোনালী হাসি ফুটেছে কৃষক ও কৃষাণীর মুখে, কৃষি পরিবারে। নবান্ন উৎসব বরণ করতে, আঙিনার ফসল গোছাতে এরা এখন বেজায় ব্যস্ত। যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের আটুলিয়া গ্রামের বজলু ডাক্তারের পুত্র মাহাবুর রহমান জানান, পাটনা মাঠের ধান কাটার পর মাড়াইয়ের কাজ চলছে। বাদামি গাছ ফড়িং বা কারেন্ট পোকার আক্রমণে কিছুটা তি হয়েছে ফসলের। এতে আশার চেয়ে ফলন একটু কম হয়েছে। একই গ্রামের কৃষক মমিনুল জানান, করোনা মহামারির মধ্যেও এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধানের বাম্পার ফলনে তিনি বেজায় খুশি। তারা সোনালী ধানের মৌ মৌ গন্ধে মনের আনন্দে কাজ করছেন। আর কয়েক দিন পরেই নতুন ধান থেকে মজার মজার খাবার তৈরি করা হবে। নবান্ন উৎসবকে ঘিরে তিনি স্বজনদের দাওয়াত দেবেন। আটুলিয়ায় নবান্ন উৎসবে ছেলে মেয়েরা সারারাত আনন্দ উল্লাস করে। রয়েছে সেই আনন্দের অসংখ্য উদযাপনী স্মৃতি। তবে আস্তে আস্তে এখানে নবান্ন উৎসব ফিকে হচ্ছে। আয়োজকরা অনেকেই এখন গ্রামের বাইরে বসবাস করেন। এ কারনে নতুন প্রজন্ম নবান্ন উৎসব সম্পর্কে জানেনা। জানেনা গভীর রাতে নলুনে রস ও গুড়ের চালের পিঠার স্বাদ। ওরা জানেনা ‘নতুন রসের কলের পিঠার খেতে মজা কাহিনী’। বিভিন্ন মাঠে দেখা যায়, কৃষকের সোনালী ধান স্বপ্ন শয়ন বাতায়নে বাতাসে দুলছে। ঝিরি ঝিরি ঠান্ডা বাতাসে ধান কাটার কাজ চলছে পুরোদমে। স্বপ্নের ফসল ঘরে তুলতে কৃষক-কৃষাণী কোমর বেঁধে কাজ করছেন। এমনই এক দম্পতির সাথে কথা হয়। তারা জানান, নবান্ন উৎসব মানেই হৃদয়ের বন্ধনকে আরও গাঢ় করার উৎসব। পাকা ধানের সোনালী রঙ দেখে মন ভরে গেছে আনন্দে। নতুন আমন ধান ঘরে তোলার আনন্দে কাজ করছেন তারা। এ যেন এক অন্যরকম অনুভূতি। শ্রীচন্দ্র পুর গ্রামের কৃষক আ: হান্নান জানান, নবান্ন উৎসবের আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নতুন ধানের পায়েশ, পিঠা, পুলি ছাড়াও তৈরি করবেন হরেক রকমের মজাদার খাবার। নবান্ন উৎসবে মেয়ে-জামাইদের শ্বশুরবাড়িতে আগমন ঘটবে। একই গ্রামের কৃষকরা জানান, নতুন ধান কাটা শেষ। বাড়িতে নেয়ার পরই মাড়াই করা হবে। নতুন ধানের চাল দিয়ে পরিবারে নবান্ন উৎসব করা হবে। আমন ধান মানেই প্রতিবেশী আত্মীয় স্বজন নিয়ে একসাথে নবান্ন উৎসব করা। একে অপরের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়া। যশোর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, এ বছর যশোর জেলায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯৪৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়। ভালো আবহাওয়া ও পোকার আক্রমণ কম হওয়ায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে কৃষক খুশি। এখন সকল কৃষি পরিবার নবান্ন উৎসবের দিন গুণছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here