লোকবল সংকটে কোটচাঁদপুর বিএডিসি কর্মকর্তার কার্যালয়, ভোগান্তিতে গ্রাহকরা! খুব দ্রুত উত্তোরন ঘটবে জানালেন উপ-সহকারি প্রকৌশলী

0
103

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি ॥ লোকবল সংকটে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর বিএডিসি কর্মকর্তার কার্যালয়। ভোগান্তিতে পড়ছে সেবা নিতে আসা গ্রাহকরা। খুব দ্রুত এ সমস্যা থেকে উত্তোরন ঘটবে জানালেন উপসহকারি প্রকৌশলী।
রবিবার সকাল ১১.৩০ মিনিট। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)‘র কার্যালয় কোটচাঁদপুর শাখার সামনে বেশ কয়েক জন মানুষের এলোমেলো ঘোরাঘুরি। প্রশ্ন করতেই জানা গেলে তাদের উদ্যেশ্য। নাম সাইফুল ইসলাম। বাড়ি তালসার। একতা সমবায় সমিতির সভাপতি তিনি। দীর্ঘ দিন ধরে গভীর নলকুপ পরিচালনা করে আসছেন। বললেন, আগে বিল ব্যাংকে দিতাম। সমস্যা হত না। এখন কার্ড করে দেয়াই অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। কখনও অফিসের লোক থাকে না, আবার কখন টাকা ভরতে যেতে হয় কালিগঞ্জ ও ঝিনাইদহে। এতে করে টাকা, সময় ও শ্রম উভয়ই নষ্টো হচ্ছে।
কার্ডে টাকা ভরতে আসা মহেশপুর উপজেলা ফতেপুর ইউনিয়নের চাঁন পাড়া গ্রামের গভীর নলকুপের ড্রাইভার আসাদুল ইসলাম জানান, হয়রানি তো মনে হয়। কারন মহেশপুর থেকে কাডে টাকা ভরতে কাজ ফেলে আসতে হয়েছে। এরপর এখন এসে দেখি অফিসে কেউ নাই। এ ভাবে তিনিও দীর্ঘদিন টাকা ভরে নলকুপটি পরিচালনা করে আসছেন।
হয়রানির কথা বললেন, কোটচাঁদপুরের গোরসুতি গ্রামের গভীর নলকুপের সভাপতি বাকের আলী। কোটচাঁদপুরের মামুনশিয়া গ্রামের মটরের লাইসেন্স করতে আসা হারুন জানান, গেল ১১ মাস আগে মটরের লাইসেন্স করতে কাগজ পত্র দিয়ে গেছি। আজও লাইসেন্স পাইনি। অফিসে আসলে কর্মকর্তাকে না পেয়ে ফিরে যায়। অফিস খুলে দেখা শোনা করেন ছাহেরা খাতুন নামের ওই চাচী।
এ দিকে অভিযোগ তোলেন অফিসের সার্বক্ষণিক দেখাশোনার কাজে নিয়োজিত ছাহেরা খাতুন। তিনি বলেন, তাকে দিয়ে অফিসের সব কাজ করান তারা। তবে সে তুলনায় টাকা পায় না। গেল ২৫ বছর যাবৎ আমি এ অফিসে কাজ করছি। প্রথমে একশত টাকা দিয়ে কাজ শুরু করি। পরে প্রকল্প চালু হলে ১৮শত টাকা করে বেতন পেতাম। এখন স্যারেরা যা দেন,তাতে চলে।
বিষয়টি নিয়ে অফিসের কার্য সহকারি মাসুদুর রহমান জানান, প্রকল্পে আমার কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে নিয়োগ দেয়া। এখানে কম্পিউটার নাই। এ কারনে অফিস খোলা আর বন্ধ করা আমার কাজ। গ্রাহক হয়রানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লোকবল সংকট রয়েছে। এ ছাড়া আমাকে দুই উপজেলায় কাজ করতে হয়। এ কারনে একটু এদিক-সেদিক হতে পারে।
দুই উপজেলার গ্রাহক সম্পর্কে তিনি বলেন, কোটচাঁদপুরে গভীর নলকুপ আছে ১১ টি। তবে মটর এখনও ১শ হয়নি। অন্যদিকে মহেশপুরে মিটিং হলেই ১শ জনের মত করে লাইসেন্স পান। আর গভীর নলকুপ চলমান রয়েছে ২৭টি।
এ ব্যাপারে কোটচাঁদপুর (বিএডিসি) অফিসের উপসহকারি প্রকৌশলী আব্দুল্লা আল মামুন জানান, লোকবল সংকটের কারনে সেবা নিতে আসা গ্রাহকরা কিছুটা হয়রানি হয়। তবে খুব শিঘ্রই এ সংকট থেকে উত্তোরন ঘটবে। সে ব্যাপারে কাজ চলছে। তবে তিনি এ দুই উপজেলায় কতজন গ্রাহক নিয়ে কাজ করেন তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here