৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নয়নের ভাবনা / মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত ৭নং ওয়ার্ড গড়তে চাই

0
534

আবিদ হাসান ঃ যশোর পৌরসভার অত্যন্ত দরিদ্র ওয়ার্ড হলো পৌর এলাকার ৭নং ওয়ার্ড। এই এলাকার অধিকাংশ লোক দারিদ্রসীমার মধ্যে বসবাস করে। বর্তমানে এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছে শেখ মোঃ শাহেদ হোসেন নয়ন। তিনি গত ৩১ শে মার্চ যশোর পৌরসভা নির্বাচনে তার এলাকার সকল মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। বর্তমানে ৭নং ওয়ার্ডে বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর শেখ মোঃ শাহেদ হোসেন নয়ন দৈনিক যশোরকে জানান, যশোর পৌরসভার মধ্যে সবচেয়ে দূর অবস্থা ছিল এই ৭নং ওয়াডের্র। বিগত দিনের যত কাউন্সিলর ছিলেন তারা কখনও এই এলাকার উন্নয়নের বিষয় খেয়াল রাখেনি। আমি এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার মাদক ও সন্ত্রাস মুক্তকে বিশেষ করে প্রাধান্য দিয়েছি। আমার ওয়ার্ডের অধিকাংশ এলাকায় দরিদ্র অসহায় ও নিম্ন আয়ের লোকের বসবাস। এছাড়া আমার এলাকার প্রায় বিশ হাজার মানুষের বসবাস। আমি দায়িত্বে আসার পর থেকে এলাকার বিভিন্ন রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ, কালভার্ট, বৈদ্যুতিক বাতি যেমনঃ ছোটনের মোড় হতে রেল লাইন পর্যন্ত ১০০০হাজার ফিট রাস্তা পাঁকাকরণ,টার্মিনালের পাশ হতে আবু হুজুরের বাসা পর্যন্ত রাস্তা ,বাবলাতলা মাছের হ্যাচারী হতে জার্মানদের বাসা পর্যন্ত রাস্তা পাঁকাকরণ করেছি।এছাড়া ৭নং ওয়ার্ডের ০৭টি লিংক রোডের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করে এলাকার মানুষের নিরাপদে চলাচলের ব্যবস্থা করেছি। এলাকার সার্বিক উন্নয়নের ল্েয দারিদ্র্য বিমোচনে ও তার ভাবনা বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর নয়ন বলেন,৭নং ওয়ার্ডের ছোট-বড় ১৫টি বস্তি রয়েছে। এর মধ্যে রানির বস্তি,বারেক পট্টি, ছোটনের মোড়ের বস্তি, জমাদ্দার পাড়া বস্তি, টিভি কিনিক বস্তি,মুক্তিযোদ্ধার বাতি প্রকল্প কলোনী,তেঁতুল বস্তিসহ এ ধরনের অনেক ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছে মানুষ এই ৭নং ওয়ার্ডে। এসকল দরিদ্র অসহায় মানুষের জন্য আমি নিজ উদ্যোগে নতুন বাসষ্টান্ডে প্রায় ৩০০ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। এবং চাঁচড়া এলাকার মাছের হ্যাচারী কাজে ও পুকুর দেখা শোনার জন্য অনেক যুবককের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি যাতে তারা মাদক ও সন্ত্রাস,চুরি, ছিনতাই হতে দূরে থাকতে পারে। আমার নিজস্ব অর্থায়নে আমি মন্টু গাছির বাড়ি হতে তছির উদ্দিন মাষ্টারের বাড়ী পর্যন্ত প্রায় ৬ ল টাকা ব্যায়ে এবং চাচাদের অর্থায়নে প্রায় ৬০০ফিট রাস্তা নির্মাণ করেছি। যশোর পৌরসভার অর্থায়নে ৫টি গণ শৌচাগার তেঁতুলতলায় ০১টি, ছোটদের মোড়ে ০২টি, শংকরপুর বাস টার্মিনালে ০২টি স্থাপন করছি। আমার এলাকার জলাবদ্ধতা বিষয়ে যশোর পৌরসভা মেয়রকে অবহিত করলে বিষয়টি তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন ও পানি নিষ্কাশনের জন্য যশোর পৌরসভা ইঞ্জিনিয়ারকে দায়িত্ব দিয়েছেন। যশোর পৌরসভার এই ৭নং ওয়ার্ডে রয়েছে যশোরের দৃষ্টি নন্দনশীল হোটেল ওরিয়ন ইন্টারন্যাশনাল,সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উপাসনালয় রামকৃষ্ণ আশ্রম ও রামকৃষ্ণ মিশন,যশোর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল,নতুন বাস টার্মিনাল, সরকারী পশু হাসপাতাল, দেশের সর্ববৃহৎ মাছের হ্যাচারী,সরকারী হাস-মুরগির খামার,টিভি কিনিক, জেলা আনসার ও ভিডিপি অফিস,জিডিএল হসপিটাল,শংকরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়,হুদা মেমোরিয়াল স্কুল, রেলগেট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,মতিয়ার রহমান মহিলা কামিল মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠান । তার এলাকার সকল ছেলে মেয়েদের সুশিা ও ক্রীড়াঙ্গনের বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর নয়ন বলেন,আমি চাই পুরো ৭নং ওয়ার্ড থাকবে সন্ত্রাস ও মাদক মুক্ত। মাদক ও সন্ত্রাসী বিযয়ে আমি এলাকায় জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি। আমার এলাকার সকল ছেলে-মেয়েরা সু-শিাই শিতি হবে। এলাকার যুব সমাজের শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থতার জন্য বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করে থাকি। এজন্য আমার মায়ের নামে একটি সামাজিক সংগঠন “শিরিন সুলতানা স্মৃতি সংঘ” স্থাপন করেছি। এই সংগঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন খেলাধুলার সুবিধার্থে বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী, পোষাক প্রতিনিয়ত বিতরণ করে থাকি। বৈশ্বিক মহামারীকরোনা কালীন সময়ে ৭নং ওয়ার্ডে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরায় বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর কাউন্সিলর নয়ন আরও বলেন,করোনা ভাইরাসের সময় আমার ব্যক্তিগত অর্থায়নে ২হাজার দরিদ্র,অসহায় ও দুস্থদের মাঝে ১শ’বস্তা চালসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করি।ও যশোর পৌরসভা মাধ্যমে আমার এলাকার ৬০০০হাজার পরিবারের মাঝে ২টন খাদ্য বিতরণ করেছি ।এলাকায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প গঠন করে বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ করেছি। এছাড়া এলাকার মসজিদে নগদ অর্থ প্রদান,মাদ্রাসা ছাত্রদের মাঝে পবিত্র কোরআন শরীফ বিতরণ,অসুস্থ রোগীর জন্য নগদ অর্থ সহায়তা, অসহায় পরিবারের মেয়েকে বিয়ের ব্যবস্থা করা,এছাড়া বয়স্ক ভাতা,বিধবা ভাতা,প্রতিবন্ধী ভাতা,মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদানসহ সকল বিষয়ে আমি সরাসরি খোঁজ-খবর রাখি। আমার বাবা মোঃ ফারুক হোসেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সংগঠক। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের শিল্পী। যশোর জেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক তিনি। তিনি এলাকাবাসীর সার্বিক বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখেন।বর্তমানে কাউন্সিলর শেখ মোঃ শাহেদ হোসেন নয়ন যশোরের বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সাথে জড়িত রয়েছে। একটি আধুনিক ওয়ার্ড হিসেবে পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডকে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here