সামনে বিজয় দিবস উপলক্ষে ব্যস্ত যশোরের ফুল চাষিরা

0
138

মালিকুজ্জামান কাকা, যশোর : আর কয়েক দিন পর দেশ জুড়ে শুরু হবে স্বাধীনতার বিজয় উৎসব। স্বাধীনতার সন্মান ও অসামান্য অর্জন এসেছিল সেই ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। তার পর একে একে ৫০ বছর পার হয়েছে। যতই দিন গেছে অর্জনের সেই মহেন্দ্রক্ষণ নিয়ে আনন্দে উল্লাসের ব্যাপ্তি বেড়েছে পূর্বের থেকে আরো। এক দিন দুই দিন নয় ডিসেম্বর জুড়েই তার প্রভাবে বিগলিত হবে বাঙলার তাবৎ মানুষ। ফুলে ফুলেল একাকার হবে শিশু নারী পুরুষ। সরকারি বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে থাকবে নানা আয়োজন। ব্যক্তিগত আয়োজন থাকবে। সাথে থাকবে উল্লাসের ফুল উৎসব। এরপর আসবে নতুন বছর থার্টি ফার্স্ট নাইট ২০২২ ইংরাজী সাল। তারপর বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এসব দিবসের বাজার ধরতে প্রস্তুত হচ্ছেন ফুলের রাজধানী যশোরের ঝিকরগাছা ও শার্শা উপজেলার গদখালী কেন্দ্রিক ফুল চাষিরা। ভালো মানের ফুল বাজারজাত করতে এখন তারা পরিচর্যায় বেজায় ব্যস্ত রয়েছেন। এ দিবস গুলোতে ১০০ কোটি টাকার বেচাকেনা করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ফুল চাষিদের। চাহিদার ৭০ ভাগ ফুল উৎপাদন ও সরবরাহ করা হয় যশোর থেকে। বিদেশেও রয়েছে তার চাহিদা। ঝিকরগাছা উপজেলার বেনেআলী, পানিসরা, শিমুলিয়া, কুলিয়া,ক ফতেপুর, ঝিকরগাছা সড়কের দুই ধারে বাকড়া পর্যন্ত ফুল আর ফুল। ফুল চাষ হয় নাভারন বুরুজ বাগানের চারিপাশের গ্রাম গুলোতে। ফুল চাষি নজরুল ইসলাম খোকন, মেম্বর আলম ও আলমগীর হোসেন বলেন, প্রায় চার বিঘা জমিতে জারবেরা, চন্দ ্রমল্লিকা, গ্লাডিওলাস ও রজনী গন্ধ্যা ফুল রয়েছে। বসন্ত বরণ ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে ফুল সরবরাহ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছি। ফুলের ভরা মৌসুমে আমাদের নাওয়া খাওয়া থাকে না। তবে তুলনামূলক ফুলের চাহিদা ও দাম এখন একটু কম। বর্তমানে গোলাপ ৪/৫ টাকা ও গ্লাডিওলাস ৮/১০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। ১৬ ডিসেম্বরের আগেই ফুলের দাম আরো বাড়বে বলে মনে করেন তারা। তারা আরও বলেন, এক বিঘা গোলাপ রোপণে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়। যার মধ্যে ৪ হাজার চারার দাম প্রায় ৫০ হাজার টাকা। আর রোপণসহ অন্যান্য খরচ আরও ৫০ হাজার টাকা। এছাড়াও পরিচর্যার খরচ রয়েছে বাড়তি। একবার চারা রোপণে ৬ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত গোলাপ ফুল পাওয়া যায়।
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী এলাকার ফুল চাষিরা প্রতি মৌসুমে সাতটি উৎসবকে ঘিরে মূল বেচাকেনা করে থাকেন। উৎসবগুলোর মধ্যে বিজয় দিবস ও খ্রিস্টীয় নববর্ষ উল্লেখযোগ্য। আসন্ন বসন্ত উৎসব, ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এসব দিবস ঘিরে ফুল বাজারে তুলতে প্রস্তুুত চাষিরা। তাই গদখালীর প্রতি মাঠে এখন শোভা পাচ্ছে গোলাপ, জারবেরা, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, জিপসি, রডস্টিক, ক্যালেনডোলা, চন্দ্র মল্লিকাসহ ১৩/১৪ ধরনের ফুল। ফুল চাষিরা জানান, সামনে কয়েকটি দিবস। আছে বিজয় দিবস। নতুন বছর, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইন দিবসের অনুষ্ঠান। তাই আশা করছি ভালো ব্যবসা হবে। পাইকারি ব্যবসায়ি রহমান, ওহেদ আলী জানান, বাজারে জারবেরা, গোলাপ, রজনীগন্ধা ফুলের চাহিদা বেশি। কৃষকরা ভালো দাম পাবেন। প্রতি বছর যশোরে ফুলের আবাদ বাড়ছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে আমরা আশাবাদী। বাংলাদেশ ফাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম জানান, যশোরের শার্শা ও ঝিকরগাছা উপজেলার এ অঞ্চলের প্রায় আট হাজার কৃষক প্রায় নয় হাজার হেক্টর জমিতে ফুলের আবাদ পরিচালনা করে। এবারের বসন্ত বরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে গদখালী এলাকার কৃষকরা ১০০ কোটি টাকার ফুল সরবরাহ করবে বলে আমি আশাবাদী।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাধন কুমার বিশ্বাস বলেন, এই অঞ্চলের ফুল চাষিদের জন্য সরকার ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন। সরকারের প থেকে ফুল চাষিদের বিভিন্ন প্রশিণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফুল চাষিদের ব্যাংক ঋণ সহজ করতে ও ফুল সহজে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করতে নানা পদপে নিয়েছেন সরকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here