জমে উঠেছে মহম্মদপুরের ইউপি নির্বাচন

0
130

মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি : প্রধান নির্বাচন কমিশন (সিইসি’র) নির্দেশনা অনুযায়ী ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই সাথে অনুষ্ঠিত হবে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। প্রচার-প্রচারণায় জমে উঠেছে উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনী হাওয়ায় ভাসছে উপজেলার সাধারণ ভোটারাও। তাদের মধ্যেও চলছে জল্পনা-কল্পনা। কে হবেন ইউনিয়ন পরিষদের অভিভাবক। কারো মতে নৌকা প্রতিকের প্রার্থীরাই এগিয়ে আবার কেউ কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরকেও এগিয়ে রাখছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার মাঠে-ঘাঠে, প্রতিটি হাট-বাজার ও পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকানে এই নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় তুলছে সাধারণ ভোটারা। নিজেদের অভিভাবক যাচাই-বাচাইয়ে তাদের মধ্যেও চলছে চুলছেড়া বিশ্লেষন। নৌকা প্রতিক প্রার্থীদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরাও ভোটাদের বাড়ী বাড়ী যেয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন।
তফসিল অনুযায়ী ২ নভেম্বর জমা এবং ৪ নভেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই বাচাই শেষে ১১ নভেম্বর প্রত্যাহার এবং ১২ নভেম্বর প্রতিক বরাদ্দ হয়েছে। এর পরপরই প্রচার-প্রচারনায় ভোট যুদ্ধে নেমে পড়েছেন প্রার্থীরা। পোস্টার ও ব্যানারে ব্যানারে ছেয়ে গেছে উপজেলার প্রতিটি হাট-বাজার, রাস্তা-ঘাট ও গ্রামাঞ্চল। অগ্রাহণের শীতকে অপেক্ষা করে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যে যার মতো সাধারণ ভোটারদের দরজায় কড়া নেড়ে তাদের নানা কাজ কর্মের আমল নামা তুলে ধরে ভোট ও দোয়া প্রার্থনা করছেন। উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী ৫৪ জন, মহিলা সদস্য ১শ ১৯ জন এবং মেম্বর ৩৬৫ জন প্রার্থী প্রতিন্দিতা করবেন এবছর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে। সাধারণ ভোটারাও প্রতিটি প্রার্থীর আমল নামা নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় তুলছে ধান ক্ষেত, হাট-বাজার ও পাড়া মহল্লার চায়ের দোকানে বসে। উপজেলায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯শ ৮ ভোটের অভিভাবক হবে কারা এ নিয়ে চলছে চুলছেড়া বিশ্লেষন। মহম্মদপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা পেয়েছে রাবেয়া বেগম। তার সাথে প্রতিদ্বন্দিতা করতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে মাঠে রয়েছে ইকবাল আক্তার কাফুর উজ্জল, ইউসুফ শেখ, মহিদুল ইসলাম, বাবুল আহমেদসহ ৭জন। পলাশবাড়িয়া ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী মোঃ আলাউদ্দীনের প্রতিদ্বন্দি স্বতন্ত্র প্রার্থী চলমান চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম, সাবেক চেয়ারম্যান এ্যাড. মনিরুল ইসলাম মুকুল, এলাকাবাসীর আস্তাভাজন বিশিষ্ট সমাজ সেবক সৈয়দ সিকান্দার আলী মণিসহ ৭জন। বালিদিয়া ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী মফিজুর রহমান মিনার প্রতিদ্বন্দি স্বতন্ত্র প্রার্থী চলমান চেয়ারম্যান মোঃ পান্নু মোল্যা, মোঃ মুরাদ আলী, আলহাজ¦ মাওলানা মাহবুবুর রহমানসহ ৭জন। এছাড়াও বাবুখালী ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী মীর সাজ্জাদ আলীর সাথে সাবেক চেয়ারম্যান বাকি মিয়ার ছেলে সৈয়দ শাহ নেওয়াজ সুমন, মিজানুর রহমান পলাশসহ ৮জন। দীঘা ইউনিয়নে খোকন মিয়ার সাথে সাবেক চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ও সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম হিরুর ছেলে আলী রেজাসহ ৯ জন। বিনোদপুর ইউনিয়নে শিকদার মিজানুর রহমানের প্রতিদ্বন্দি ৭জন। রাজাপুর ইউনিয়নে মিজানুর রহমান বিশ^াসের সাথে ৬ জন এবং নহাটা ইউনিয়নে মোঃ আলী মিয়ার সাথে তৈয়েবুর রহমান তুরাপ ও জাসদের এ্যাড. মিজানুর রহমান ফিরোজ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করার জন্য ভোট যুদ্ধে মাঠে নেমে পড়েছেন।
পলাশবাড়ীয়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী, সাধারণ মানুষের আস্থাভাজন সৈয়দ সিকান্দার আলী মণি বলেন, এলাকার সর্বস্থরের মানুষ আমাকে ভালবাসে তাই আমি নির্বাচনে এসেছি। এলাকার দূখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে আমি প্রায় ৮ বছর ধরে তাদের পাশে আছি এবং চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে বা না হলেও থাকবো।
উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ তায়জুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরোপেক্ষ রাখতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here