যশোর সদর উপজেলার ‘কিশোর-কিশোরী কাব’ দুই মাসে নাস্তার সোয়া দু’লাখ টাকা ‘নয়-ছয়ের’ অভিযোগ

0
103

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর সদর উপজেলায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ‘কিশোর-কিশোরী কাব’র নাস্তার বরাদ্দ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গত দু’মাসের বরাদ্দের ২ লাখ ৬৮ হাজার ৮শ’ টাকার মধ্যে ২ লাখ ৩৫ হাজার ২শ’ টাকা খরচ না করেই উত্তোলন করে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাব চালু থাকলেও বরাদ্দ দেরিতে আসায় তা পরে বন্টন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ‘কিশোর-কিশোরী কাব স্থাপন’ প্রকল্পের আওতায় যশোর সদর উপজেলায় ১৬টি কাব রয়েছে। কাবগুলোতে সপ্তাহে দু’দিন বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত কিশোর কিশোরীদের নানা ধরণের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন করা হয়। প্রত্যেকটি কাবে ৩৫ জন সদস্য হিসেবে প্রতি কার্যদিবসে ৩০ টাকা করে নাস্তার বরাদ্দ রয়েছে। এ হিসেবে প্রতি কাবে সপ্তাহে (দুই কার্যদিবস হিসেবে) কাবপ্রতি বরাদ্দ থাকে ২ হাজার ১শ’ টাকা। যশোর সদর উপজেলার ১৬টি কাবে নাস্তা বাবদ প্রতি মাসে বরাদ্দ ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪শ’ টাকা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর যশোর সদর উপজেলার ১৬টি কাবের তিন মাসের নাস্তা বাবদ ৪ লাখ ৩ হাজার ২শ’ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে এই বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৬৮ হাজার ৮শ’ টাকা। অভিযোগ উঠেছে, গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে প্রতিটি কাবে ১৮টি কাস হওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ২টি কাস হয়েছে। গত ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর এই কাস অনুষ্ঠিত হয়। বাকী কাসগুলো হয়নি। অথচ সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর পুরো মাসের ২ লাখ ৬৮ হাজার ৮শ’ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অথচ দুই কাসে ব্যয় করা হয়েছে ৩৩ হাজার ৬শ’ টাকা। অভিযোগকারীদের দাবি, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর যশোরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক নাসরিন আখতার সুলতানা ও ফিল্ড সুপারভাইজার আলমগীর হোসেন বাকী টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন। কিশোর কিশোরী কাবে কাস না হওয়ার ব্যাপারে বেশ কয়েকজন প্রশিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রশিক্ষক কাস অনিয়মিত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন, তবে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দিতে রাজী হননি। এ ব্যাপারে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর যশোরের ফিল্ড সুপারভাইজার আলমগীর হোসেন দাবি করেন, প্রতি সপ্তাহে দু’দিন করেই কিশোর-কিশোরী কাবের কাস হয়েছে। যশোর সদরে ১৬টি কাবের মধ্যে ১৫টি চালু ও একটি বন্ধ রয়েছে। কাবের প্রত্যেক কাসেই তাদের নাস্তা সরবরাহ করা হয়েছে। কোনো অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি। তবে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর যশোরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক নাসরিন আখতার সুলতানা জানিয়েছেন, যখন কিশোর কিশোরী কাবে কাস চালু রাখার নির্দেশনা আসে, তখন বরাদ্দ আসেনি। পরে বরাদ্দ এসেছে। ফলে দু’দিনের নাস্তা একবারে দেয়া হয়েছে। আর কাস চালু রাখা ও নাস্তা বন্টনের বিষয়টি ফিল্ড সুপারভাইজার আলমগীর হোসেন দেখাশোনা করেন। তবে কোনো অনিয়মের সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেন নাসরিন আখতার সুলতানা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here