হুমকি ধামকিতে সাধারন ভোটাররা আতঙ্কিত ৮নং বাঁগাচড়া ইউনিয়ন জুড়ে সন্ত্রাসীদের ত্রাসের রাজত্ব

0
12

মালিকুজ্জামান কাকা, যশোর : শার্শা উপজেলার ৮নং বাঁগাচড়া ইউনিয়ন পরিষদে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল খালেক, তার পরিবারের সদস্য, আত্মীয় স্বজন ও অনুসারিরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের তোপের মুখে পড়েছে। প্রতিদিন প্রতিপক্ষের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা হুমকি ধামকিসহ নানা সন্ত্রাসে এদের জীবন ব্যতিব্যস্ত করছে। এমনকি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনও সন্ত্রাসীদের মদদ পুষ্ট হয়ে সন্ত্রাসীদের সকল অপরাধ আড়াল করছে। স্বতন্ত্র ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল খালেক এসব বিষয়ে যশোরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছেন। সাধারন ভোটাররা অভিযোগ করেছেন বাঁগাচড়ায় ভোটের পরিবেশ নেই। যশোর জেলার গুরুত্বপূর্ন এই ইউনিয়নে ভোটারের সংখ্যা ২৮৩৩০ জন। সন্ত্রাসীরা ২৩ নভেম্বর সন্ধ্যা সাতে ছয়টার দিকে সনাতনকাঠীস্থ স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান এর আনারস প্রতীক কার্যালয়ে প্রার্থী আব্দুল খালেককের ভাই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাবেক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল রশিদ কে হুমকি দেন। এসময় সন্ত্রাসীদের নেতৃত্ব দেয় বাঁগাচড়ার চিহ্নিত সন্ত্রাসী টুটুল। সন্ত্রাসী টিমে আরো ছিল চেয়ারম্যান প্রার্থী ইলিয়াস কবির বকুলের ভাই তিতু, বাঁগাচড়ার সামছুর রহমানের পুত্র জাহিদ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াছিরের পুত্র নাজমুলসহ অন্তত ২৫/৩০ জন। সন্ত্রাসীরা ১২টি মোটর সাইকেলে আগ্নেয়াস্ত্র উচিয়ে তাকে হুমকি প্রদান করে। উপস্থিত কার্যালয়ের আব্দুল খালেকের অনুসারিরা প্রাণভয়ে এসময় চুপ করে থাকেন। সন্ত্রাসীরা এসময় কয়েকটি মোটর সাইকেল ভাংচুর করে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সন্ত্রাসীরা মহড়া দিয়ে ইউনিয়ন জুড়ে ত্রাস সৃস্টি করছে। এদের মধ্যে ধাবক খুনে জড়িত চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা রয়েছে। নির্বাচনী সহিংসতায় আহত মোস্তাক ধাবক মারা গেছেন। তিনি বাগআঁচড়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল খালেক ধাবকের ছেলে। ১৬ নভেম্বর রাতে প্রতিপরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি আহত হন। এসময় আব্দুল খালেক, তার আরেক পুত্রসহ চারজন মারাত্মক জখম হন। আনারস প্রতীকধারী স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী বর্তমানে আতঙ্ক নিয়ে ভোটের মাঠে রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে বাঁগাচড়া পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ ফরিদ, এস আই ফরহাদ এসব সন্ত্রাসীদের সকল অপকর্ম আড়াল করছে। এখানে পুলিশ রয়েছে সন্ত্রাসের পক্ষে ভিন্ন ভূমিকায়। এমনকি ধাবক হত্যা মামলাটিও এখনো এন্ট্রি হয়নি। তবে আঘাতের একটি নাম কা ওয়াস্তে মামলা হয়েছে। সাধারন ভোটাররা অভিযোগ করেছেন, বাঁগাচড়া জুড়েই এখন সন্ত্রাসীদের রাজত্ব চলছে। তবে বেশি হচ্ছে বাঁগাচড়া, সনাতনকাঠী, ১,২,৩ নং ওয়ার্ডে। সাতমাইলে তীব্র সন্ত্রাসের মাধ্যমে একজন কে খুন, তিনজন আহতের সেই দূর্বিষহ চিত্র মুছে না যেতেই আবারো সন্ত্রাসে লিপ্ত চিহ্নিত দূর্বত্তরা। এসব দূর্বত্ত চেয়ারম্যান প্রার্থী ইলিয়াস কবির বকুলের অনুসারি। তার প্রতীক নৌকা। প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন মাস তিনেক আগে একই সন্ত্রাসীরা শার্শা থানা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি মিজানুর রহমানের পা ভেঙে দেয়। তিনি পঙ্গু অবস্থায় বর্তমানে বাড়ি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সে ঘটনায় শার্শা থানা পুলিশ মামলা নেয়নি। তালেব মেম্বরের নেতৃত্বে ঐ টুটুল গং এই সন্ত্রাসী কার্য্যক্রম চালায়। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ি ইউনিয়নটির উত্তরে কায়বা ইউনিয়ন, দেিণ উলাশী ইউনিয়ন, পূর্বে ঝিকর গাছা উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়ন এবং পশ্চিমে গোগা ইউনিয়ন পরিষদ অবস্থিত। ২০১৬ সালের আদম শুমারি অনুযায়ি ইউনিয়নটির লোকসংখ্যা ৩৮,৯৬৫ জন। গ্রামের সংখ্যা ১৪ টি, মৌজার সংখ্যা ১১টি, হাট/বাজার সংখ্যা ৫৬টি, এবং খানার সংখ্যা ৮৪৭ টি। আয়তন মোট ৮০.৫০ বর্গকিমি (৩১.০৮ বর্গমাইল), জনসংখ্যা (২০১১), মোট ৩৮,৯৬৫। জন ঘনত্ব ৪৮০/বর্গকিমি (১,৩০০/বর্গমাইল)। মোট ভোটার সংখ্যা ২৮৩৮০। বাঁগাচড়া ইউনিয়নের গ্রাম গুলো হচ্ছে বাগআঁচড়া, পিঁপড়াগাছি, সোনাতনকাটি, বসতপুর, ১ নং কলোনী, ২ নং কলোনী, শরিফপুর, টেংরা, মহিষাকুড়া, বাগাডাঙ্গা, সামটা। এদিকে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরেও বাঁগাচড়ায় সন্ত্রাস এক চুল কমেনি। সন্ত্রাসীরা সকাল দুপুর বিকাল রাতে নিয়মিত মোটর সাইকেল ও আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়া দিচ্ছে। ফলে সেখানে এই মুহুর্তে ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভোটের পরিবেশ একদমই নেই বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাধারন ভোটাররা। তারা পরিস্থিতি দেখে বেজায় আতঙ্কিত। সন্ত্রাসী দমনে প্রশাসনের স্থানীয় ভূমিকা একেবারে নেই। বাঁগাচড়া পুলিশ ফাড়িটি এক্ষেত্রে একেবারে ফালতু ভূমিকায় রয়েছে। তারা সন্ত্রাস বা সন্ত্রাসী না দমন করে উল্টো তা লালন পালন করছে বলে জোর অভিযোগ রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here