ডুমুরিয়ার শুটকি যাচ্ছে ভারত ও মালয়েশিয়ার বাজারে

0
100

গাজী আব্দুল কুদ্দুস, ডুমুরিয়া : ডুমুরিয়ায় সালতা নদীর তীরে এক মালয়েশিয়া প্রবাসীর উদ্যোগে গড়ে উঠেছে শুঁটকি মাছের প্রজেক্ট। স্বাস্থ্যসম্মতভাবে উৎপাদিত এখানকার শুঁটকি মাছ বিদেশের বাজারে সুনাম কুড়াচ্ছে। তাই শুঁটকি উৎপাদনে ব্যাপক ধুম পড়েছে এই প্রজেক্টে। জানা যায় ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের টিয়াবুনিয়া এলাকায় গত দুই মাস আগে গড়ে উঠেছে মেসার্স নূর ভাই ভাই ফিস ট্রেডিং নামক একটি শুঁটকি মাছের প্রজেক্ট। সালতা নদীর তীরে বাঁশের মাচাং তৈরি করে বিশাল চাতালে প্রতিদিন ১টনেরও বেশি মাছ শুকানো হচ্ছে এখানে। এ কর্মযজ্ঞে অর্ধশত নারী-পুরুষ শ্রমিক প্রতিদিন সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন। এদের অধিকাংশের বাড়ি খুলনার কয়রা এলাকায়। প্রতিদিন সূর্যের প্রখর তাপে শুকানো হচ্ছে সাগর থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন প্রজাতির এই মাছ। কাঁচা মাছ ১০মিনিট লবন পানিতে ভিজিয়ে রৌদ্রে শুকানো হচ্ছে। যাতে মাছগুলোকে পোকা মাকড়ে নষ্ট না করতে পারে। এখানে ফাইস্যা, লইট্টা, চ্যাপা, রূপচাঁদা, শৈল, হাঙ্গর, ইলিশ, ভোলা ও দেশীয় পুঁটিসহ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি প্রজাতির মাছ শুকানো হয়। তবে বিদেশের বাজারে হাঙ্গর অর্থাৎ কামোট মাছের চাহিদাও রয়েছে বেশ। এ প্রসঙ্গে শুঁটকি পল্লীর ম্যানেজার রিপন দাস জানান, ‘নিয়মিত সূর্যের তাপ পেলে ৩থেকে ৪দিনের মধ্যেই কাঁচা মাছ শুকিয়ে শুঁটকিতে পরিণত হয়। আমাদের শুঁটকি দেশের বাজারের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।’ এ বিষয়ে নূর ভাই ভাই ফিস ট্রেডিংয়ের মালিক প্রবাসি মোঃ নূর ইসলাম বলেন, ‘আমার বাড়ি খুলনার নতুন বাজার এলাকায়। আমি দীর্ঘ ১৪ বছর যাবত মালয়েশিয়া থেকে শুঁটকি মাছের ব্যবসা করেছি। সেখানে এখনো আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু করোনার কারণে বন্ধ আছে। তাই দেশে এসে আমি শুঁটকির ব্যবসা শুরু করেছি। এখানে ২একর জায়গা হারিতে নিয়ে আমি বাঁশের খুটি এবং চালা তৈরি করে মাটি থেকে ৫/৭ফুট উঁচুতে চাতাল করেছি। আমার এ প্রজেক্টে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে শুঁটকি উৎপাদন করা হচ্ছে। শুধুমাত্র লবন পানি ছাড়া কোন ধরণের কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না। তিনি বলেন, আমি বিদেশে এব্যবসায় সফলতা পেয়েছি। যে কারণে আমি সরাসরি বিদেশের বাজারে ভারত ও মালশিয়ায় রপ্তানি করতে পারছি। স্বাস্থ্যসম্মতভাবে মাছ প্রস্তুত করায় বিদেশে এর চাহিদা খুব। তবে বৈধ কাগজপত্রের বিষয় জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘ব্যবসা সবেমাত্র শুরু করেছি। তাই পেপারস গুলো হাতে পেতে কিছু তো সময় লাগবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলোতে আবেদন করা হয়েছে। আশাকরি খুব শিঘ্রই পেয়ে যাবো।’ তবে অভিযোগ আছে, পোকা মাকড় থেকে রা এবং স্থায়িত্ব বাড়াতে অধিকাংশ শুঁটকি পল্লীতে ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক। যা মানব স্বাস্থ্যের জন্য খুবই তিকর। তাই সকল শুঁটকি পল্লীতে প্রশাসনের তদারকির দাবী সচেতনবাসীর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here