চৌগাছায় বিলের পানিতে তলিয়ে যাওয়া কৃষকের মরাদেহ প্রায় ২০ ঘন্টা পর উদ্ধার

0
56

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ॥ যশোরের চৌগাছায় বিলের পানিতে ডুবে পিল্লাদ ঘোষ (৪৬) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়ার প্রায় ২০ ঘন্টা পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার দুপুরে উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের দিঘড়ী গ্রামে। নিহত পিল্লাদ ঘোষ ওই গ্রামের মৃত ফকির ঘোষের ছেলে। নিহতের স্বজন ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, পিল্লাদ ঘোষ পেশায় একজন কৃষক। শুক্রবার সকালে বোরো ধান রোপনের জন্য লাঙ্গল গরু নিয়ে মাঠে যায়। দুপুরে জমি চাষ শেষে বাড়িতে ফেরার সময় স্থানীয় কচুবিলা নামক বিলে সে গরুর গোসল করাতে পানিতে নামে। গরুর গোসল করার সময় অসাবধনতা বশত বিলের পানিতে তলিয়ে যায়। হালের গরু দুইটি বাড়িতে এলেও পিল্লাদ ঘোষ বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে বিলের ধারে খুজতে যায়। লাঙ্গল জোয়াল বিলের ধারে পড়ে থাকতে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। একপর্যায় স্থানীয় জেলেদের জাল নিয়ে এলাকাবাসি পানিতে নেমে তাকে খুজতে থাকেন। কিন্তু কোন সন্ধান না পেয়ে তারা ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের খবর দেন। সন্ধ্যার পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা ২ ঘন্টা ধরে ব্যাপক তল্লাসি করে কোন সন্ধান না পেয়ে রাত ১০ টার সময় তল্লাসি স্থগিত করেন। পরের দিন শনিবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে পুনরায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা পানিতে নেমে ব্যাপক তল্লাসি শুরু করেন এবং বেলা ১০ টার দিকে তার মরাদেহের সন্ধান পাই। পানি থেকে মরাদেহ তুলে উপরে আনলে স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এসময় মৃত ব্যক্তিকে দেখতে বিলের পাড়ে শতশত মানুষ হাজির হয়। বেলা সাড়ে ১০ টার দিকে ডুবুরি দলের সদস্যরা মরাদেহ স্থানীয় চেয়ারম্যান ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন। নিহতের কাকা স্বরজিৎ কুমার ঘোষ জানান, প্রতি দিনের মতই সে সকালে মাঠে যায়। দুপুরে বাড়িতে গরু আসলেও সে না আসায় আমাদের সন্দেহ হয়। মাঠে কাজ করা অনেকেই তাকে ওই বিলে গরুর স্নানান করাতে দেখেছে, এ কারনেই মনে হয়েছে সে পানিতে তলিয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ঠ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল কদর জানান, পিল্লাদ ঘোষ পেশায় কৃষক। সে বিলের পানিতে তলিয়ে মারা গেছে এমন খবরে আমি সেখানে ছুটে যায়। দীর্ঘ চেষ্টার পর শনিবার তার মরাদেহ ডুবুরি দলের সদস্যরা উদ্ধার করেন। চৌগাছা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ষ্টেশনের সাব-ষ্টেশন ম্যানেজার রবিউল ইসলাম বলেন, খরা মৌসুমে ওই বিল হতে মাটি কেটে নেওয়ায় পানির তলদেশ ছিল উচু নিচু। সে কারনে ডুবুরিদের তার মরাদেহ পেতে বেশ বেগ পেতে হয়। দু’দফা চেষ্টার পর শনিবার সকাল ১০ টার দিকে তার মরাদেহের সন্ধান পাওয়া যায়। পানি থেকে লাশ তুলে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে স্থানীয় শ্মশানে নিহতের দাহ সম্পন্ন হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here