ঈদযাত্রায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর কারণ ‘মোটরসাইকেল’

0
47

যশোর ডেস্ক: ঈদযাত্রায় ও ফিরতি পথে বাস-ট্রেনে ভোগান্তি এড়াতে হাজার হাজার মোটরসাইকেলের ছুটে চলা নিয়ে উচ্ছ¡াস দেখা গেলেও এই প্রবণতা এবারো সড়কে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর কারণ হয়েছে। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারো ঈদযাত্রায় সড়কে অন্য যেকোনো বাহনের আরোহীর চেয়ে বেশি মারা গেছে মোটরসাইকেলের আরোহীরা। আবার বাইক দুর্ঘটনায় যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি লাইসেন্স পাওয়ার মতো বয়সই হয়নি। এবার ঈদে বাড়ি ফেরার সময় দুর্ঘটনায় মৃত্যু ছিলো অনেকটাই কম। তবে ঈদের দিন থেকে ক্রমাগত মৃত্যুর তথ্য আসতে থাকে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন হিসাব করে দেখেছে, ঈদের আগে-পরে ১০ দিনে সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে ২৪৯ জন। তাদের মধ্যে ৯৭ জন মোটরসাইকেল আরোহী। গড় হিসাবে তা দাঁড়ায় ৩৯ শতাংশ। যারা বাইক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৫৭ শতাংশ বা ৫১ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক, অর্থাৎ ১৮ বছরের নিচে। এদের বাইক চালানোর লাইসেন্স পাওয়ার মতো বয়সই হয়নি। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে বিধি-নিষেধের কারণে গত দুই বছরে ঈদে গ্রামমুখো হওয়ার সুযোগ পায়নি। এবার ঈদের আগে-পরে মিলিয়ে ৯ দিন অবসরের সুযোগ তৈরি হওয়ার কারণে শহর ছেড়ে শিকড়ের টানে যাত্রাও ছিলো বেশি। গ্রামমুখী এই যাত্রায় এবার বাইরের স্রোত ছিলো দেখার মতো। ফেরিঘাটে প্রথমবারের মতো অন্যান্য যানবাহন বসিয়ে রেখে কেবল বাইক পারাপার করা হয়েছে। উত্তরের পথে বঙ্গবন্ধু সেতুর পাশে টোলপ্লাজায় বাইক আরোহীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। বাইকের এই যাত্রা নিঃসন্দেহে বাস, ট্রেন বা লঞ্চে চাপ কমিয়েছে। তবে ঈদের দিন থেকেই এবার যত সড়ক দুর্ঘটনার খবর এসেছে, তার একটি বড় অংশই ছিলো বাইককেন্দ্রিক। কেবল এবার নয়, গত কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর বেশির ভাগই হয় বাইকের কারণে। এই বাহনগুলো সাধারণত দূরের যাত্রায় ব্যবহার করা খুবই বিপজ্জনক এ কারণে যে এর নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল। দীর্ঘ যাত্রার কান্তিতে চালক দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে এবং বেশির ভাগ েেত্রই মহাসড়কে বাইক দুর্ঘটনা হয় প্রাণঘাতী।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ঈদে ৩১৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২৩ জন নিহত ও ৬২২ জন আহত হয়েছিলেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৩৯ জন মারা যান বাইক আরোহী। আহত হন আরও ১৯৯ জন। ওই বছর সড়কে মৃত্যুর ৪৩ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং আহতের ৩১ দশমিক ৯৯ শতাংশ ছিলো বাইক আরোহী। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, গণপরিবহনের বিকল্প হিসেবে এবার মোটরসাইকেলের ব্যবহার বেশি হয়েছে। মহাসড়কে চালিয়ে অভ্যস্ত নন, এমন ব্যক্তিরাও শত শত কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছেন মোটরসাইকেলে। বেশির ভাগ েেত্রই বেপরোয়া গতি ও চালকের অদতার কারণে দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here