ইইডির তৈরি ডুমুরিয়ার পল্লী শ্রী স্কুলের হেলে পড়া ভবনের ভবিষ্যত কি ? * ভবন সোজা করতে পরিখা খনন, দায় নিতে চায় না কেউ * কবে সমাধান কেউ বলতে পারছে না, এলাকায় তোলপাড়

0
22

গাজী আব্দুল কুদ্দুস,ডুমুরিয়া : ছিল না ভূমিকম্প, হয়নি ভূমিধ্বসও, তারপরও ৫-৬ ইঞ্চি হেলে পড়েছে ডুমুরিয়া উপজেলায় নির্মাণাধীন পল্লীশ্রী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চারতলা একাডেমিক ভবন। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) বাস্তবায়নাধীন এ ভবন হেলে পড়া নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছিল প্রায় ৬ মাস আগে। তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে ইইডির কর্তৃপক্ষ বলেছিলেন, ১৫ দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান করা হবে। তবে সর্বশেষ খবর হচ্ছে, অভিনব সব কৌশল নিয়েও ফল হচ্ছে না। কত দিনে ভবন ঠিক করা যাবে? কিংবা আদৌ এর কোন ভবিষ্যত আছে কিনা তার উত্তর মিলছে না।
এদিকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের খুলনা জোনের তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী মারুফ আল ফারুকী বলেন, প্রকল্পের পিডি হচ্ছেন আমাদের প্রধান প্রকৌশলী শাহ নাইমুল কাদের স্যার, আমরা তাকে প্রতি মুহূর্তে আপডেট দিচ্ছি। ভবন রিকভারি করার চেষ্টা চলছে। তবে কতদিন লাগবে তা বলতে পারছি না।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের বাস্তবায়নে ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘নির্বাচিত মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহে উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় পল্লীশ্রী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের জন্য টেন্ডার আহবান করা হয়। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ২ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
খুলনার দৌলতপুরের এমএস রৈতি এন্টার প্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ পায়। যার স্বত্বাধিকারী টিপু হাওলাদার। অভিযোগ উঠেছে, ভবনটি যেখানে করার কথা ছিল, সেখানে নির্মাণ না করে কিছুটা সরিয়ে করা হয়েছে। তবে যেখানে করা হয়েছে, সেখানের সয়েল টেস্ট ঠিকভাবে করা হয়নি। এছাড়া জায়গাটি বিল বা ডোবা হিসেবে থাকলেও বহুতল বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের আগে তার স্থায়িত্ব নিয়েও ভাবা হয়নি। এসব কারণে ভবনটি হেলে পড়েছে। এখন যেনতেনভাবে সেটি টিকিয়ে রেখে কাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদার বিল উত্তোলনের চেষ্টা করছে। আবার কোনমতে ভবন সোজা করেই ইইডির দায়িত্বপ্রাপ্তরাও পার পেতে চাচ্ছেন। ভবন সোজা করেই ইইডির দায়িত প্রাপ্তরাও পার পেতে চাচ্ছেন।
সরেজমিনে বিদ্যালয় ভবন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের হেলে পড়া চারতলা ভবনটি সোজা করতে অভিনব সব পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। ভবন সোজা করতে এক পাশে খনন করা হচ্ছে ১৪ ফুট গভীর খাল। অন্য পাশে বাঁশের পাইলিং দিয়ে ১২ ফুট চওড়া ও ১৪ ফুট উচ্চতায় নির্মাণ করা হচ্ছে বাঁধ। অভিনব এ পদ্ধতিতে কাজ চলছে প্রকল্প পরিচালক ও প্রধান প্রকৌশলী শাহ নাইমুল কাদেরের নির্দেশে। তবে এ পদ্ধতি যথেষ্ট কার্যকর কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত ২৫ ফেরুয়ারি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তিন সদস্য বিশিষ্ট টেকনিক্যাল টিম ভবনটি পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। পরে ভনবটি হেলে পড়া রোধ ও সোজা করতে এ পদ্ধতিতে কাজ করতে ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নতুন ফর্মুলা অনুযায়ী ভবনের সামনে (দক্ষিণ পাশ) এবং পশ্চিম পাশে মূল ভবনের কিছু অংশ বাদ রেখে ১২ ফুট চওড়া ও ১৪ ফুট গভীর খাল খনন করা হচ্ছে। সেখান থেকে উত্তোলিত পচা (জোবা) মাটি বস্তায় ভরে ভবনের পেছন ও পূর্বপাশের ডোবা নালায় বাঁশের পাইলিং দিয়ে প্রায় ১২ ফুট চওড়া ও ১৪ ফুট উচ্চতার বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, কাজ সম্পন্ন করার নির্ধারিত সময়ের দ্বিগুণ সময় পার হলেও ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এরমধ্যেই আবার ভবনের পেছনের (উত্তর) পাশ ডেবে ভবনটি হেলে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে গত ফেব্রæয়ার ও মার্চ মাস জুড়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে তোলপাড় শুরু হয়। এক পর্যায়ে ইইডি নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ টিম ভবনটি পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর থেকেই নানা কৌশলে ভবন সোজা করার কাজ চলছে। তবে কোন কৌশলেই ফল হচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, গভর্নিং বডির সদস্য ও এলাকাবাসী।
বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আছেন ইইডির খুলনা জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান। সর্বশেষ অবস্থা জানার জন্য তার মোবাইলে গত দুদিন ধরে দফায় দফায় কল করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। একাধিকবার পরিচয় দিয়ে এসএমএস পাঠালেও সাড়া দেননি তিনি। তবে পূর্বে তিনি বলেন, সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। আমাদের প্রধান প্রকৌশলী প্রকল্প পরিচালক। তিনি বিষয়টি দেখছেন। আমরা নিয়মিত তাকে আপডেট দিচ্ছি। সময় তো একটু লাগবেই। আর ভবন কতটা ঠিক হবে তা বিশেষজ্ঞরা বলতে পারবেন। আমি বলতে পারছি না। তিনি জানান, ভবন যখন হয় তখন তিনি খুলনার দায়িত্বে ছিলেন না। তবে সমস্যা শুরু হওয়ার পর তিনি এখানে এসেছেন। প্রকৌশলী শাহ নাইমুল কাদের যখন ইইডির তত্ত¡াবধয়াক প্রকৌশলী ছিলেন তখন এ প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন। এখন তিনি প্রধান প্রকৌশলী। তিনি এখনো প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বে আছেন। প্রকৌশলী শাহ নাইমুল কাদের এক মাস আগে বলেছিলেন, শীঘ্রই হেলে পড়া ভবন সোজা করা সম্ভব হবে। আর যেভাবে সোজা করা হচ্ছে সেটা বিজ্ঞান সম্মতই। কিন্তু এই ঘটনার দায় কার? এমন প্রশ্নে তিনি বলেছিলেন, দায়ী কে হবে। একটা সমস্যা হয়ে গেছে। ভবন সোজা করা হবে। এখানে সয়েল টেস্ট ঠিকভাবে হয়নি হয়তো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here